বাংলাদেশ সংবাদ

প্রবাসী কার্ডে বিমানভাড়া-চিকিৎসায় ছাড়, ধাপে ধাপে সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা

প্রবাসী কার্ডে বিমানভাড়া-চিকিৎসায় ছাড়, ধাপে ধাপে সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২১ আগস্ট:  প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশিকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে পাঁচ হাজার জনকে কার্ড দেওয়া হবে। পরে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনে দেড় লাখ প্রবাসীকে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড হিসেবে এটি দেওয়া হবে। কার্ডের মেয়াদ থাকবে পাঁচ বছর। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এ কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবে।

যেসব সুবিধা থাকছে

প্রবাসী কার্ডে একাধিক আর্থিক, চিকিৎসা ও ভ্রমণ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমানের টিকিটে ১০ শতাংশ এবং দেশের পর্যটন হোটেলে আবাসনে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বিমানবন্দরের বলাকা লাউঞ্জে খাবারে ২০ শতাংশ ছাড় এবং লাগেজ র‌্যাপিংয়ে বিশেষ সুবিধাও থাকছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা, লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে দ্রুত সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দর থেকে পিক-আপ ও ড্রপ-অফ সুবিধাও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ সুবিধা। সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য পৃথক সেবা কাউন্টার এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও মিলবে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।

বিদেশে কোনো কার্ডধারীর মৃত্যু হলে মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনার সুবিধা, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন সহায়তা ও বিমা সুবিধাও কার্ডের আওতায় রাখা হয়েছে।

রেমিট্যান্স ও সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার

প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে কার্ডে বাড়তি প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কার্ডটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ক্রেডিট, প্রিপেইড ও ভার্চুয়াল কার্ড সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি সেবায় প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে। এনআইডি, পাসপোর্ট, কনস্যুলার ও আইনি সেবাতেও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কারা পাবেন

বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশিরা প্রথম পর্যায়ে এ কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন। আবেদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে যুক্ত হওয়ার পর জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড ইস্যু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবেদন করার পর সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

দেশের যেসব এলাকায় জনতা ব্যাংকের শাখা রয়েছে, সেখান থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। শাখা না থাকলে নির্ধারিত পোস্ট অফিস থেকেও কার্ড নেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও পরবর্তী সময়ে আবেদন করে কার্ড নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফি পরিশোধের পর নিজ দেশের বাংলাদেশি কনস্যুলার অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশিরাও আবেদন করে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্ডটি চালুর আগে এর প্রতিটি সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা পরীক্ষামূলকভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের কার্ড ব্যবহারের নিয়ম ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রচার চালানো প্রয়োজন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা ও দেশে ফেরার পর নানা ক্ষেত্রে প্রবাসীদের যে ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে, নতুন এই কার্ডের মাধ্যমে তা কমানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানকে আরও উৎসাহিত করাই উদ্যোগটির অন্যতম লক্ষ্য।