তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ফ্রান্স ও ইতালিতে অস্থিরতা: কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা?

ফ্রান্স ও ইতালিতে অস্থিরতা: কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা?

ইউরোপ প্রতিনিধি, ২২ অক্টোবর:

ইউরোপের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ ফ্রান্স ও ইতালিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা রেস্তোরাঁ, নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, সরবরাহব্যবস্থা, কৃষি ও অন্যান্য সেবামূলক খাতে কাজ করেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতির প্রভাব বুঝে চলা জরুরি।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন: ফ্রান্স ও ইতালির সাম্প্রতিক অস্থিরতা মানেই বাংলাদেশি প্রবাসীরা সরাসরি হামলা বা গণগ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, এমন নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে তাঁরা কোথায় থাকছেন, কোন এলাকায় কাজ করছেন, বিক্ষোভের কাছাকাছি আছেন কি না এবং তাঁদের বসবাস ও কাজের কাগজপত্র বৈধ কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে বিক্ষোভের পর স্থানীয়ভাবে কারফিউ বা চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতালির উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশেই পরিস্থিতি শহর ও এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ফ্রান্স: বিক্ষোভের প্রভাব পড়তে পারে যাতায়াত ও কর্মজীবনে

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবা এবং শিক্ষাসংক্রান্ত অসন্তোষসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। কিছু বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।

রয়টার্সের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকটি দেশের সরকার তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে। বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর কয়েকভাবে প্রভাব পড়তে পারে।

১. কাজে যাওয়া ও ফেরার পথে সমস্যা

প্যারিসসহ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ হলে সড়ক বন্ধ, গণপরিবহন ব্যাহত কিংবা নির্দিষ্ট এলাকায় পুলিশের চলাচল নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঘটতে পারে। যাঁরা প্রতিদিন ট্রেন, মেট্রো বা বাসে করে কর্মস্থলে যান, তাঁদের সময়মতো কাজে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।

রেস্তোরাঁ, দোকান, গুদাম, পরিচ্ছন্নতা প্রতিষ্ঠান কিংবা ডেলিভারির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে সব এলাকায় একই ধরনের বিঘ্ন ঘটবে, এমন নয়।

২. কর্মঘণ্টা ও আয়ের ওপর চাপ

বিক্ষোভের কারণে কোনো দোকান, রেস্তোরাঁ বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হলে কর্মীদের শিফট পরিবর্তন কিংবা কাজের সময় কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

যাঁরা ঘণ্টাভিত্তিক মজুরিতে কাজ করেন, তাঁদের আয় সাময়িকভাবে কমার আশঙ্কা থাকে। তবে কর্মঘণ্টা কমলেই নিয়োগকর্তা আইনগতভাবে মজুরি দিতে বাধ্য নন—এমন সাধারণ সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে না। বিষয়টি নির্ভর করবে চাকরির চুক্তি, প্রযোজ্য শ্রম আইন এবং পরিস্থিতির ওপর।

তাই কর্মীদের উচিত কাজের সময় পরিবর্তন বা ছুটির নির্দেশনা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা এবং মজুরি নিয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্তৃপক্ষ বা কর্মী প্রতিনিধির পরামর্শ নেওয়া।

৩. বিক্ষোভের এলাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে আটকে পড়ার ঝুঁকি

কেউ কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস কিংবা রাস্তা বন্ধের কারণে নিরাপদে বের হওয়া কঠিন হতে পারে।

এ কারণে বিক্ষোভস্থল, বড় জমায়েত এবং যেখানে পুলিশের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, সেসব এলাকা এড়িয়ে চলা উচিত। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করাও জরুরি।

যুক্তরাজ্যের সরকারি ভ্রমণ নির্দেশনা অনুযায়ী, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে স্বল্প সময়ের নোটিশে কারফিউ জারি হতে পারে। তাই যাঁরা সেখানে বসবাস করছেন, তাঁদের স্থানীয় সংবাদ ও প্রশাসনের ঘোষণা নিয়মিত দেখা প্রয়োজন।

ইতালি: মিলানসহ বড় শহরে সতর্কতা কেন জরুরি?

ইতালিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি ও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। কিছু এলাকায় সংঘর্ষ ও লুটপাটের পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইতালিতে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী রয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত ইতালির দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাঁদের অনেকে বিভিন্ন খাতে কাজ করেন এবং বাংলাদেশে অর্থ পাঠান।

৪. নিরাপত্তা তল্লাশি ও পুলিশের নির্দেশনা

বিক্ষোভের সময় পুলিশের তল্লাশি, রাস্তা বন্ধ এবং নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে বিক্ষোভে অংশ না নিলেও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

পুলিশের নির্দেশ অমান্য করা, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করা কিংবা সংঘর্ষের কাছাকাছি অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত। কোনো ঘটনার ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়াও ঠিক নয়।

৫. রেস্তোরাঁ, নির্মাণ ও সেবামূলক খাতে কর্মীদের সমস্যা

ইতালিতে অনেক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ, পরিচ্ছন্নতা, নির্মাণ, সরবরাহ ও অন্যান্য সেবামূলক কাজে যুক্ত। কোনো এলাকায় বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা বন্ধ থাকলে বা পরিবহন ব্যাহত হলে এসব খাতের কর্মীদের কাজের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ইতালির সব বাংলাদেশি কর্মীর চাকরি বা আয় ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি নির্দিষ্ট শহর, কর্মস্থল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করবে।

কর্মীদের উচিত নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, পরিবর্তিত শিফটের তথ্য সংরক্ষণ করা এবং বেতন বা চাকরির শর্ত নিয়ে সমস্যা হলে স্থানীয় শ্রম সহায়তা সংস্থার সঙ্গে কথা বলা।

৬. বাসস্থান ও দৈনন্দিন চলাচল

বিক্ষোভের আশপাশে দোকানপাট বন্ধ থাকলে খাবার, ওষুধ কেনা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সাময়িক সমস্যা হতে পারে। গণপরিবহন ব্যাহত হলে হাসপাতাল, কর্মস্থল বা অন্য জরুরি গন্তব্যে পৌঁছাতেও বাড়তি সময় লাগতে পারে।

তাই কর্মস্থল ও বাসস্থানের আশপাশে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

অভিবাসননীতি কি বাংলাদেশিদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে?

ফ্রান্স ও ইতালিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় রয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণে বৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সবার ভিসা বাতিল হবে কিংবা তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে—এমন সিদ্ধান্তের কোনো ভিত্তি নেই।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ আগস্ট ২০২৬-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে নিয়মিত অভিবাসনের পথ সম্প্রসারণ এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অভিবাসননীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এক বিষয় নয়। কোনো দেশের সরকার অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিলেও তার প্রভাব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইন, ব্যক্তির অভিবাসন-অবস্থা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, ভিসা, বসবাসের অনুমতিপত্র, কাজের অনুমতি এবং পাসপোর্টের মেয়াদ সম্পর্কে সচেতন থাকা।

দ্বিতীয়ত, নবায়নের আবেদন করলে তার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা।

তৃতীয়ত, কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির কথায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি কিংবা অবৈধ পথে কাগজপত্র ঠিক করার চেষ্টা না করা।

কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ, স্বীকৃত আইনি সহায়তা সংস্থা কিংবা বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের ওপর কি প্রভাব পড়বে?

ফ্রান্স ও ইতালিতে কর্মরত বাংলাদেশিরা পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনের জন্য দেশে অর্থ পাঠান। ফলে তাঁদের কর্মজীবনে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

তবে বর্তমান বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রয়োজন। সাময়িক পরিবহন সমস্যা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কয়েক দিনের জন্য বন্ধ থাকা থেকে জাতীয় পর্যায়ে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

দীর্ঘ সময় ধরে কর্মসংস্থান কমে গেলে, কাজের অনুমতি পেতে সমস্যা হলে কিংবা শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এসব সম্ভাবনাকে বর্তমান পরিস্থিতির নিশ্চিত ফল হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের এখন কী করা উচিত?

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলুন: কাজ বা বাসায় ফেরার পথে বিক্ষোভের খবর পেলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করুন। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করবেন না।

যাতায়াতের খবর দেখুন: ট্রেন, বাস ও মেট্রোর চলাচল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পরিবহন সংস্থার হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করুন। জরুরি নয় এমন ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করুন।

জরুরি নথি সংরক্ষণ করুন: পাসপোর্ট, বসবাসের অনুমতিপত্র, কাজের চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপদ কপি রাখুন। প্রয়োজনীয় মূল নথি সব সময় সঙ্গে রাখা সম্ভব না হলে সেগুলো নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করুন।

কর্মস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন: বিক্ষোভ বা পরিবহন সমস্যার কারণে কাজে পৌঁছানো সম্ভব না হলে নিয়োগকর্তাকে দ্রুত জানান। সম্ভব হলে যোগাযোগের লিখিত প্রমাণ রাখুন।

জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে সাধারণ জরুরি সহায়তার নম্বর ১১২। তাৎক্ষণিক বিপদে স্থানীয় জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন: পাসপোর্ট, কনস্যুলার সহায়তা কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অযাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

গুজব এড়িয়ে চলুন: বিক্ষোভের পুরোনো ছবি, অন্য দেশের ভিডিও কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি নতুন ঘটনার নামে ছড়াতে পারে। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার উৎস ও প্রকাশের তারিখ যাচাই করুন।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

ফ্রান্স ও ইতালির সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সতর্ক থাকার একটি কারণ। তবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্থানীয় বাস্তবতা, সরকারি নির্দেশনা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।

যাঁরা বৈধভাবে বসবাস করছেন, নিয়ম মেনে কাজ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করছেন, তাঁদের জন্য বিক্ষোভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিপদ তৈরি হয় না। একইভাবে, কোনো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হলেই গোটা দেশ অনিরাপদ হয়ে গেছে—এমন ধারণাও সঠিক নয়।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস, কমিউনিটি সংগঠন ও কর্মী সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিস্থিতির নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য, জরুরি যোগাযোগ এবং আইনি সহায়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।