তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে ইউরোপে ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে ইউরোপে ট্রেন চালুর পরিকল্পনা

লন্ডন, ২২ অক্টোবর : পূর্ব লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরাসরি আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে স্টেশনটির অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের দিকে স্টেশনটি থেকে ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। আগামী বাজেটে স্টেশনটির উন্নয়নে অর্থায়নের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে ‘স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে পরিচিত স্টেশনটি থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে না। ইউরোস্টারের ট্রেনগুলো স্টেশনটি অতিক্রম করে গেলেও সেখানে থামে না। ফলে স্টেশনটির আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা এত দিন পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

প্যারিস, ব্রাসেলস ও আমস্টারডামে যাওয়ার সুযোগ

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ফ্রান্সের প্যারিস, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামগামী ট্রেন স্ট্র্যাটফোর্ডে থামতে পারে। জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ইংল্যান্ড ও ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে চলাচলকারী প্রতি তিনটি ট্রেনের একটি স্ট্র্যাটফোর্ডে থামানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে কোন কোন রুটে ট্রেন থামবে, কতটি ট্রেন চলবে এবং টিকিটের মূল্য কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আন্তর্জাতিক ট্রেন পরিচালনার বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভার্জিন গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০ সাল থেকে ইউরোপগামী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করছে এবং স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনালকে সম্ভাব্য স্টপেজ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ ছাড়া জেমিনি ট্রেনসও ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে স্ট্র্যাটফোর্ড থেকে ট্রেন চালানোর বিষয়টি নির্ভর করবে অপারেটরদের সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ওপর।

কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন?

আন্তর্জাতিক ট্রেন চালু করতে স্টেশনটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীদের পাসপোর্ট ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা তল্লাশি, চেক-ইন সুবিধা এবং যাত্রীদের অপেক্ষার জায়গা উন্নত করা।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি পাউন্ড। এই অর্থায়নের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে স্ট্র্যাটফোর্ড এলাকায় ‘বিজনেস রেট রিটেনশন জোন’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা ব্যবসায়িক করের অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধির অর্থ স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান মনে করেন, আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ চালু হলে পূর্ব লন্ডনে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও পর্যটনের সুযোগ বাড়বে। তাঁর মতে, ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্ট্র্যাটফোর্ডের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

পূর্ব লন্ডনের যাত্রীদের সুবিধা

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব লন্ডন এবং আশপাশের এলাকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষের আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ সহজ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে ইউরোপে ট্রেনে যেতে অধিকাংশ যাত্রীকে সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশনে যেতে হয়। স্ট্র্যাটফোর্ডে আন্তর্জাতিক ট্রেন থামলে নিউহ্যাম, টাওয়ার হ্যামলেটস ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা তুলনামূলক সহজে আন্তর্জাতিক রেল পরিষেবা পেতে পারেন।

স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে আঞ্চলিক স্ট্র্যাটফোর্ড স্টেশনে যাওয়ার জন্য ডিএলআর ব্যবহার করা যায়। সেখান থেকে জুবিলি লাইন, এলিজাবেথ লাইন, সেন্ট্রাল লাইন ও লন্ডন ওভারগ্রাউন্ডের মাধ্যমে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু হলে পূর্ব লন্ডনের হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান ও পর্যটন খাতেও ব্যবসার সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা এগোলেও স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল থেকে আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচলের নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, স্টেশনের উন্নয়ন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইউরোস্টার আপাতত লন্ডনে দুটি স্টেশনে পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনায় আগ্রহ দেখায়নি। ফলে স্ট্র্যাটফোর্ডে আন্তর্জাতিক ট্রেন থামানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা নতুন অপারেটরদের পরিষেবার ওপর নির্ভর করতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্ট্র্যাটফোর্ড ইন্টারন্যাশনালকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে রূপান্তরের পরিকল্পনা পূর্ব লন্ডনের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।