‘সীমানা পেরিয়ে‘ চলে গেলেন ‘সূর্যকন্যা’ জয়শ্রী কবির
ভয়েস অব পিপল বিনোদন ডেস্ক: কিংবদন্তি অভিনেত্রী জয়শ্রী কবির আর নেই। নীরব প্রস্থানেই থেমে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সূর্যকন্যা’ কিংবা ‘সীমানা পেরিয়ে’র মতো স্মরণীয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে যিনি দুই বাংলার দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন, সেই জয়শ্রী কবির শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া জয়শ্রী রায় ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ উপাধি অর্জনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ১৯৭০ সালে কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। পরে ১৯৭৬ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে ‘অসাধারণ’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে জয়শ্রী কবিরের আগমন ঘটে ‘সূর্যকন্যা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই ছবির শুটিংয়ের সূত্রেই তিনি ঢাকায় আসেন এবং পরে বিশিষ্ট নির্মাতা আলমগীর কবিরকে বিয়ে করে বাংলাদেশে স্থায়ী হন। বিয়ের পর জয়শ্রী রায় থেকে তিনি পরিচিত হন জয়শ্রী কবির নামে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় এক যুগ তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সক্রিয় ছিলেন।
গড়পড়তা বাণিজ্যিক ছবির বাইরে থেকে বেছে বেছে অভিনয় করাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি ছিল বুলবুল আহমেদের সঙ্গে। ‘সূর্যকন্যা’য় প্রথমবার বুলবুল আহমেদের বিপরীতে অভিনয়ের পর ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘মোহনা’, ‘পুরস্কার’ ও ‘রূপালি সৈকতে’র মতো চলচ্চিত্রে এই জুটি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ‘রূপালি সৈকতে’ ও ‘সীমানা পেরিয়ে’ বাংলাদেশের সেরা দশ চলচ্চিত্রের তালিকায় স্থান পায়।
আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জয়শ্রী কবির কলকাতায় ফিরে যান। ১৯৮৯ সালের ২০ জানুয়ারি আলমগীর কবিরের মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবিরকে নিয়ে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় লন্ডনের সিটি কলেজে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সূত্র জানায়, মৃত্যুর কয়েক মাস আগে থেকেই তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সিঙ্গাপুরপ্রবাসী তার একমাত্র সন্তান মাসখানেক আগে লন্ডনে এসে মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যান।
ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের একটি বড় অংশ বাংলাদেশকে ঘিরেই আবর্তিত ছিল জয়শ্রী কবিরের। দুই বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসে তিনি থেকে যাবেন এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে—যিনি সত্যিকার অর্থেই সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।