ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনায় পিছু হটলেন প্রধানমন্ত্রী
আয়কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এলেন বার্নহ্যাম
ভয়েস অব পিপল প্রতিবেদন, ২২ জুলাই:
ব্রিটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, করের চাপ এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ব্যক্তিগত আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নির্বাচনী রাজনীতিতে ভোটারদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে যে বিষয়টি সামনে এনেছিলেন, এখন তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহ্যাম আগে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা (personal allowance) বাড়ানোর বিষয়টিকে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং বাজেটের চাপের কারণে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি এখন কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছেন।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো আয়কর দিতে হয় না। এই করমুক্ত সীমা বাড়ানো হলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের কর্মজীবীরা সরাসরি উপকৃত হতেন। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি খরচ, বাড়িভাড়া এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সময়ে এটি সাধারণ মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ তুলে দিতে পারত।
তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার মনে করছে, করমুক্ত সীমা বাড়ানোর অর্থ হবে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হওয়া। সরকারি ব্যয়, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS), সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো খাতে অর্থ জোগান দিতে গিয়ে নতুন সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের এই অবস্থান দেখাচ্ছে যে নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতি ও সরকার পরিচালনার বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিরোধীরা ইতোমধ্যে অভিযোগ তুলছে, ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তা থেকে সরে যাওয়া হচ্ছে।
একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, “ভোটাররা করের চাপ কমানোর আশা করেছিল। কিন্তু সরকার এখন বলছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এতে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।”
তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, সরকার কোনো প্রতিশ্রুতি বাতিল করছে না; বরং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। তাদের দাবি, প্রথম অগ্রাধিকার হলো অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।
বার্নহ্যামের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে কর কমানোর জনআকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষা। আগামী বাজেটে সরকার কী ধরনের করনীতি গ্রহণ করে, সেটিই নির্ধারণ করবে নতুন প্রশাসনের অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর ছাড়ের মতো জনপ্রিয় নীতি থেকে পিছু হটা সরকারের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ ব্রিটেনের বহু ভোটার এখন সরাসরি জানতে চাইছেন—তাদের পকেটে বাস্তবে কতটা অর্থ ফিরবে এবং প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়িত হবে।