ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

আইনি চ্যালেঞ্জের পর এফোর্ডেবল হোমস নীতিতে আংশিক ছাড়, ‘অর্ধেক জয়’ দেখছেন টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র

আইনি চ্যালেঞ্জের পর এফোর্ডেবল হোমস নীতিতে আংশিক ছাড়, ‘অর্ধেক জয়’ দেখছেন টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র

কমিউনিটি ডেস্ক, ২২ জুলাই:

সাশ্রয়ী আবাসন বা এফোর্ডেবল হোমসের বাধ্যতামূলক কোটা ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার সিদ্ধান্তে আংশিক পরিবর্তন এনেছে লন্ডন মেয়রের কার্যালয়। টাওয়ার হ্যামলেটসসহ কয়েকটি কাউন্সিলের আইনি চ্যালেঞ্জের পর এই সিদ্ধান্তে কিছুটা পিছু হটেছে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ)।

গত ১৬ জুলাই ঘোষিত নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসসহ কিছু বারা এই কোটার হ্রাস থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে। তবে এটিকে পূর্ণ বিজয় নয়, বরং “অর্ধেক জয়” হিসেবে দেখছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান।

তিনি বলেন, এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে কাউন্সিলগুলোর আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। তবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ‘জরুরি ব্যবস্থা’ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মেয়র রহমান বলেন, “আমাদের আইনি চ্যালেঞ্জের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সিটি হল এই ছাড় দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের জুডিশিয়াল রিভিউতে উত্থাপিত যুক্তিগুলোর একটি মৌলিক ভিত্তি তারা স্বীকার করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে কাউন্সিলগুলোকে উচ্চাভিলাষী সাশ্রয়ী আবাসন লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে। টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো বারাগুলো ইতোমধ্যে যে পরিমাণ এফোর্ডেবল হোমস সরবরাহ করছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।”

সাত কাউন্সিলের সম্মিলিত চাপ

এফোর্ডেবল হোমসের কোটা কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি ও লুইশাম কাউন্সিল যৌথভাবে হাইকোর্টে জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন করে।

এই আইনি উদ্যোগকে সমর্থন জানায় আরও চারটি কাউন্সিল—ল্যামবেথ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথ্যাম ফরেস্ট ও হ্যারিঙ্গে। সাতটি কাউন্সিলের সম্মিলিত অবস্থানই সিটি হলকে নীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেয়র লুৎফুর রহমানের মতে, একটি অভিন্ন ২০ শতাংশ কোটা চালু হলে যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে বেশি সংখ্যক সাশ্রয়ী বাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেসব এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

আবাসন সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা

লন্ডনে আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। সোশ্যাল হাউজিংয়ের অপেক্ষমাণ তালিকা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী আবাসনে থাকা পরিবারের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর দাবি, এফোর্ডেবল হোমসের লক্ষ্য কমিয়ে দিলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাড়ি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

মেয়র রহমান সতর্ক করে বলেন, “২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকলে আগামী দুই বছরে হাজার হাজার সাশ্রয়ী বাড়ি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। একবার এসব বাড়ি হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না।”

তিনি বলেন, “যেখানে লন্ডনের প্রতি ২১টি শিশুর একজন গৃহহীন—অর্থাৎ প্রায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে একজন গৃহহীন শিশু থাকার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—সেখানে প্রকৃত প্রয়োজনীয় সাশ্রয়ী বাড়ির পরিবর্তে অন্য কোনো অগ্রাধিকার গ্রহণযোগ্য নয়।”

গণতান্ত্রিক পর্যালোচনার দাবি

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র জানিয়েছেন, তারা লন্ডনের মেয়র ও জিএলএর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে বড় ধরনের পরিকল্পনা নীতির পরিবর্তন যেন যথাযথ পর্যালোচনা, জনমত গ্রহণ ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে হয়—এই দাবিতে তারা অটল থাকবেন।

আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, লন্ডনের দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে সাশ্রয়ী আবাসনের সংখ্যা কমানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন আয়ের পরিবার, তরুণ প্রজন্ম এবং স্থানীয় কমিউনিটিগুলো।