ঢাকাসহ সারাদেশে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যা: দিনে গড়ে ৪১ জন জীবন হারাচ্ছেন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় সিআইপিআরবি পরিচালিত জাতীয় জরিপ (২০২২-২৩) অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫০৫ এবং ২০২৪ সালে পুলিশ হিসাব অনুযায়ী ১৩ হাজার ৯২০ জন।
সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন এমন ১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমকাল জানা গেছে, পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক চাপ, সামাজিক জটিলতা ও মানসিক বিষণ্নতার কারণে মানুষ এই চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে এদের কেউই মানসিক সমস্যা কমাতে চিকিৎসকের সাহায্য নেননি।
গত সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেছেন, যার মধ্যে গৃহবধূ শম্পা আক্তার রিভা পারিবারিক কলহের কারণে প্রাণ দেন। তিনি স্বামীর কাছে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে ঘটনার আগে নিজ দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছিলেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলছেন, “একজন মানুষ কখনও একক কারণে আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা মানসিক চাপ, ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য ও দায়িত্ববোধের সংমিশ্রণে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।” তিনি সতর্ক করেন, সময়মতো বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করলে আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করান, “যখন রাষ্ট্র পর্যাপ্ত জীবন কাঠামো নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন মানুষ একা হয়ে পড়ে। সম্পর্কজনিত বিরোধ ও সামাজিক অসহযোগিতা আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ায়।”
পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পারিবারিক ও মানসিক সমস্যায় দ্রুত হস্তক্ষেপ, কমিউনিটি পুলিশিং, কাউন্সেলিং ও সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয় আত্মহত্যা প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে জীবন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
এই পরিস্থিতি আরও একবার নির্দেশ করে যে, শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, সামাজিক কাঠামো ও মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থন সঠিকভাবে না থাকলে, দেশের মানুষ ক্রমশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।