ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুমিছিল থামছেই না: লিবিয়ার উপকূলে সাত অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুমিছিল থামছেই না: লিবিয়ার উপকূলে সাত অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারি: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্বে উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ার–এর একটি সমুদ্রসৈকত থেকে অন্তত সাতজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় পুলিশের বরাতে জানা গেছে, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে মরদেহগুলো তীরে এসে পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে, যা এই মৃত্যুর ঘটনাকে আরও মর্মস্পর্শী করে তুলেছে। এখনো নিহতদের পরিচয় বা তারা কোন দেশের নাগরিক—তা নিশ্চিত করা যায়নি।

এই ঘটনা নতুন নয়। ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের হাজারো মানুষ প্রতি বছর লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মানবপাচারকারী চক্রের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই সাগর বহু আগেই ‘মৃত্যুর সমাধিক্ষেত্র’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

এর আগেও একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছে। ২০২৩ সালে লিবিয়ার উপকূলের কাছেই একটি অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হন। ২০২৪ সালেও ভূমধ্যসাগরে একাধিক নৌডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ বহু অভিবাসীর মৃত্যু হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, যুদ্ধ ও নিরাপদ অভিবাসন পথের অভাব মানবপাচারকারীদের আরও শক্তিশালী করছে। অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জানেন ঝুঁকি আছে, তবু জীবনের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে তারা এই বিপজ্জনক যাত্রায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

কাসর আল-আখিয়ারের এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—অবৈধ ও অনিরাপদ অভিবাসন শুধু একটি ভৌগোলিক সংকট নয়, এটি একটি গভীর মানবিক ট্র্যাজেডি। সচেতন মহল মনে করছে, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার বিস্তার, মানবপাচার দমন এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বাস্তব ঝুঁকি সম্পর্কে কার্যকর সচেতনতা তৈরি না হলে ভূমধ্যসাগরের এই মৃত্যুমিছিল থামবে না।

শেষে একটা ছোট প্রশ্ন রেখে যায় এই লাশগুলো—আর কত মৃত্যু হলে আমরা সত্যিই সচেতন হব?