ঢাকার মোহাম্মদপুরে তথাকথিত ‘সমন্বয়ক’কে পিটিয়ে জখম
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২২ ফেব্রুয়ারি: রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এক তরুণকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ১০টার দিকে সংঘটিত এ হামলার পর আহত মো. ইব্রাহীমকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান—সাধারণভাবে পরিচিত পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের বন্ধুদের দাবি, ইব্রাহীম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এ এলাকার একজন ‘সমন্বয়ক’। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তিনি হুমকি পেয়ে আসছিলেন। সেই শত্রুতার জের ধরেই এ হামলা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, স্থানীয় একটি আওয়ামী লীগ অফিস বা তার সামনের জায়গায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হামলার সময় ইব্রাহীমের সঙ্গে ছিলেন আরিফ আহমেদ নামে এক স্কুল শিক্ষক। তিনিই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সাংবাদিকদের তিনি জানান, তারাবির নামাজের পর ময়ুর ভিলার সামনে একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন তারা। এ সময় মুখে গামছা বাঁধা চার ব্যক্তি এসে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ইব্রাহীমের হাতে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন-সম্পৃক্ত পরিচয়ে পরিচিত সমন্বয়কদের ওপর হামলা, পিটুনি ও ধরপাকড়ের একাধিক খবর সামনে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা রাজনৈতিক প্রতিশোধ, আবার কোথাও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে আন্দোলনের পরিচয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইব্রাহীমের ওপর হামলার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ কি না—তা এখন তদন্তসাপেক্ষ। তবে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিশোধের সংস্কৃতি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।