ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলা, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলা, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

লন্ডন, ২৩ জুলাই: যুক্তরাজ্যে মুসলিম বিদ্বেষমূলক হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নতুন এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদ কোনো না কোনো ধরনের হামলার শিকার হচ্ছে। গত এক বছরে ৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভাঙচুর, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, অনলাইন ঘৃণামূলক প্রচারণা এবং ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য।

সরকারের অংশীদার হিসেবে মুসলিমবিদ্বেষ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট (British Muslim Trust) এ তথ্য প্রকাশ করে সতর্ক করেছে যে, মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলার গতি বাড়ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে লন্ডন, গ্রেটার ম্যানচেস্টার এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে। শুধু লন্ডনেই গত ১২ মাসে ৯টি পৃথক মসজিদে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে বার্মিংহামের একটি মসজিদ একই সময়ে তিনবার হামলার শিকার হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মুসলিমবিদ্বেষমূলক ঘৃণাজনিত অপরাধ ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত বহন করে।

ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ বলেন, মসজিদগুলো এখন শুধু উপাসনার স্থান নয়, বরং ঘৃণাজনিত অপরাধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। তার মতে, সরকারকে মসজিদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বছর যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মসজিদ, মুসলিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তা জোরদারে সর্বোচ্চ ৪ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে সিসিটিভি, অ্যালার্ম, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তবে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের অভিযোগ, বাস্তবে এই তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। অনেক মসজিদকে আবেদন অনুমোদনের জন্য ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

সংস্থাটির মতে, একটি মসজিদ কেবল মসজিদ হওয়ার কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা সহায়তা পেতে দীর্ঘসূত্রতা থাকায় অনেক উপাসনালয় নতুন হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি ছোটখাটো হামলার ঘটনায় অনেক সময় পুলিশের সাড়াও মিলছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট ও ব্রিটিশ ফিউচার পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ছয়জন ব্রিটিশের একজন মনে করেন মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতির জন্য মৌলিক হুমকি। গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের মনোভাব সমাজে ইসলামবিদ্বেষকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে।

হোম অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে মুসলমানরা যে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছেন তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকার চায় তারা শুধু নিরাপদই থাকবেন না, নিজেদের নিরাপদ বলেও অনুভব করবেন। তাই নিরাপত্তা তহবিলের আবেদনগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তির জন্য কাজ চলছে।