একনেকে সিলেট বিভাগের ৪টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন
সিলেট প্রতিনিধি, ২৪ ডিসেম্বর :
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সিলেট বিভাগের অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেট মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সিলেট বিভাগের অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো—
১. ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)
এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে তামাবিল পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে।
২. সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)
সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান, নিরাপদ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নগরবাসীর জীবনমান উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
৩. সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প
এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্ত ও টেকসই করা হবে। ফলে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে।
৪. সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন ও বন্যা এবং সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)
সিলেট অঞ্চলের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট বিভাগের বন্যা ঝুঁকি কমবে এবং কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একনেক সভায় অনুমোদিত এসব প্রকল্প সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।