উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক আসছে সিলেট সীমান্তে , বাড়ছে নাশকতার আশঙ্কা
সিলেট প্রতিনিধি, ১ ফেব্রুয়ারি: সিলেট সীমান্ত দিয়ে ধারাবাহিকভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের চালান দেশে প্রবেশের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তের চোরাপথ ব্যবহার করে বিস্ফোরকগুলো প্রথমে লোকালয়ে মজুত করা হচ্ছে, পরে র্যাব ও পুলিশের অভিযানে সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, নাশকতার উদ্দেশ্যেই এসব বিস্ফোরক দেশে আনা হচ্ছে।
র্যাব জানায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চুনাপাথর খনিতে ব্যবহৃত ‘পাওয়ার জেল’ ও ‘ইলেকট্রিক এবং নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর’ চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের প্যাকেটে প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে ভারতের নামও পাওয়া গেছে।
গত এক সপ্তাহে র্যাব চারটি পৃথক অভিযানে বিস্ফোরকের চালান আটক করেছে। শুক্রবার রাতে কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবন থেকে ২৫টি পাওয়ার জেল ও ২৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন গোয়াইনঘাট উপজেলার সাতাইন এলাকায় বন বিভাগের পরিত্যক্ত একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে পাওয়া যায় ৮টি পাওয়ার জেল ও ৮টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার বারেকেরটিলা এলাকায় ১.১২৫ কেজি পাওয়ার জেলসহ ১৬টি ডেটোনেটর এবং দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় আরও কয়েকটি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৯-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত সিলেটে ভারতীয় ১১ কেজি ৭৪০ গ্রাম বিস্ফোরক ও ৭৮টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, সাউন্ড গ্রেনেড, পেট্রোলবোমা ও ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “পাওয়ার জেল ও ডেটোনেটর দিয়ে উচ্চমাত্রার শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরি করা যায়। নাশকতার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই অপরাধী চক্র এগুলো আনতে পারে। চোরাচালানে জড়িতদের শনাক্তে আমাদের তদন্ত চলছে।”
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে বিস্ফোরক প্রবেশের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান জরুরি। একই মত দিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, চোরাচালানের রুট দ্রুত বন্ধ করা না গেলে নির্বাচন ঘিরে নাশকতার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
সীমান্তঘেরা সিলেটের নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।