লন্ডন থেকে দেড় যুগ পর মা-মাতৃভূমির কাছে ফিরে গেলেন তারেক রহমান
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ২৪ ডিসেম্বর:
প্রায় দেড় যুগ—ব্যক্তিগত জীবনের হিসাবে যা প্রায় এক প্রজন্মের সমান। সেই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ইতিহাস যেন আবার নতুন করে নিজেকে লিখতে শুরু করল। লন্ডনের আজকের শীতল আকাশ পেছনে রেখে অবশেষে প্রায় দেড় যুগ পর মা-মাতৃভূমির কাছে ফিরে গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট ও ক্রিম রঙের চেক স্যুট—পরিচ্ছদে কোনো আড়ম্বর ছিল না। আচরণেও ছিল না তাড়াহুড়োর ছাপ। কন্যাকে আগলে ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান ডিপারচার গেটের দিকে। চারপাশে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, সাংবাদিকদের নজর ও ইতিহাসের ভার—সবকিছুকে নীরবে উপেক্ষা করেই এগিয়ে যান তিনি।
কোনো ভিআইপি লাউঞ্জ নয়, কোনো বিশেষ সুবিধা নয়—সাধারণ যাত্রীদের সারিতেই দাঁড়িয়ে সম্পন্ন করেন আনুষ্ঠানিকতা। এখানেই যেন এক দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে লন্ডন ছাড়ে। ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসাবে আছেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন।
বিজনেস ক্লাসে এই ছয়জন ছাড়াও নিজস্ব অর্থে টিকিট কিনে আরও কয়েকজন যাত্রী সফর করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাহিদুর রহমান, মুজিবুর রহমান মুজিব, খসরুজ্জামান খসরু, নাসির আহমদ শাহীন, রহিম উদ্দীন, আসাদুজ্জামান আহমদ, গোলাম রব্বানী, মঈন উদ্দীন, জুবায়ের বাবু, এম এ সালাম, ডালিয়া লাকুরিয়া প্রমুখ। এ ফ্লাইটে বিজনেস ক্লাসের ওয়ানওয়ে টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ইকোনমি ক্লাসে আরও প্রায় ৩৫ জন যাত্রী টিকিট কেটেছেন। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, ইতালি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরা রয়েছেন। ফ্লাইটে তারেক রহমানের গৃহকর্মীরাও আছেন। সব মিলিয়ে এই যাত্রায় তার সঙ্গী যাত্রীর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি।
রাজনৈতিকভাবে এমন এক সময়ে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন ঘটছে, যখন বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ফলে এই ফেরা নিছক ব্যক্তিগত ঘটনা নয়—এর প্রভাব পড়বে দেশের রাজনীতির সমীকরণে, জনমনে এবং আগামীর পথচলায়।
লন্ডন থেকে ঢাকার এই যাত্রা শুধু ভূগোলের দূরত্ব পাড়ি দেওয়া নয়। এটি স্মৃতি, সংগ্রাম, অনুপস্থিতি আর প্রত্যাশার দীর্ঘ পথচলার গল্প—যার পরিণতি কী হবে, তা এখন নজর রাখছে পুরো দেশ।