বিশ্ব সংবাদ
কলকাতার রাজপথে ‘বঙ্গসেনা’, বাংলাদেশ ভাগের দাবিতে মিছিল
কোলকাতা প্রতিনিধি, ২৬ আগস্ট :
কলকাতার ব্যস্ত শিয়ালদহ এলাকা থেকে রাজপথে মিছিল বের করে ‘বঙ্গসেনা’ নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশকে ভাগ করে কথিত ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে। সোমবারের এই মিছিলে সংগঠনটির নারী সদস্যদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও পোস্টার।
মিছিল থেকে বাংলাদেশকে ভাগ করার আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা নিয়ে পৃথক ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার দাবি উঠে আসে।
মিছিলে থাকা সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া সুভাষ মজুমদার দাবি করেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ থেকেই তারা ‘বঙ্গভূমি’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেমেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া ও বরিশাল—এই ছয় জেলা নিয়ে প্রথম পর্যায়ে তাদের কথিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পরে টেলিফোনে দেওয়া বক্তব্যে মজুমদার দাবির পরিধি আরও বাড়ানোর কথা বলেন। তিনি বাংলাদেশের ২১টি জেলা এবং রংপুরকেও প্রস্তাবিত ‘বঙ্গভূমি’র অংশ করার দাবি জানান। এমনকি বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড তারা চান বলেও দাবি করেন।
সংগঠনটির নেতারা জানান, তাদের এই দাবির বিষয়ে জাতিসংঘে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তবে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া নেতাদের একজন নারায়ণ দাস নিজেকে সংগঠনটির সেনাধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদর দপ্তর ভারতের আসামের কার্বি আংলং জেলায়। ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও তাদের উপস্থিতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংগঠনের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নারায়ণ দাস সেটিকে ‘গোপন বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ফলে সংগঠনটির কথিত সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতার দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই মেলেনি।
বঙ্গসেনার নেতারা বাংলাদেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার দাবিও করেছেন। তবে এসব দাবির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর অবস্থান স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মিছিলের দৃশ্যেও ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য। সংগঠনটির পুরুষ সদস্যদের অনেকে লাল পোশাক পরেছিলেন। নারী সদস্যদের বড় একটি অংশকে লাল শাড়িতে দেখা যায়। শিয়ালদহ থেকে মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মানুষ কৌতূহল নিয়ে তা দেখেন।
বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একটি সংগঠনের এমন প্রকাশ্য দাবি দুই দেশের সম্পর্কের স্পর্শকাতর বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রদায়গত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সীমান্তের ওপারে কোনো সংগঠন ভূখণ্ডগত দাবির আন্দোলন গড়ে তুললে তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তবে ‘বঙ্গসেনা’র দাবি ও সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে মিছিলকারীদের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি।