ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
বাংলাদেশে হঠাৎ এত গ্যাস সংকটের কারণ কী?
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৫ আগস্ট:
বাংলাদেশে গ্যাস সংকট হঠাৎ এত তীব্র হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ এখন মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে কমছে, আর সেই ঘাটতি পূরণে আমদানি করা এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে একটি টার্মিনাল বন্ধ হলেই জাতীয় গ্রিডে বড় ধাক্কা লাগছে।
সংকটের তাৎক্ষণিক সূত্রপাত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালে আগুনের পর। এতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে সময় লাগায় শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি ও আবাসিক গ্রাহকের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

আগস্টের শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট কাটেনি। এর মধ্যেই এলএনজি কার্গো গ্রহণ ও টার্মিনালে সংযুক্ত করা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ফলে আমদানি করা এলএনজি দেশে থাকলেও তা দ্রুত গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া যাচ্ছে না।
এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দেশে এলএনজি আনার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু সেই এলএনজি নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাসে রূপান্তরের নিশ্চয়তা কোথায়?
আরও বড় দুর্বলতা হলো, দেশের মোট গ্যাস চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সময়েও সরবরাহ থাকে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর বড় একটি অংশ আসে এলএনজি থেকে। ফলে টার্মিনাল বিপর্যয় মানেই জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় সরাসরি সংকট।
সুতরাং বর্তমান সংকটকে শুধু একটি আগুন, একটি বয়লার বা একটি কার্গোর সমস্যা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া, আমদানিনির্ভরতা এবং মাত্র দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা—এই তিন দুর্বলতার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।
আর কার্গো গ্রহণে জটিলতা কেন তৈরি হলো, একই ধরনের কার্গো আগে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে এবার আপত্তির কারণ কী—এসব প্রশ্নেরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কারণ গ্যাস এখন শুধু জ্বালানি নয়; শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।