ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
আগুনের সতর্কবার্তাতেও বিপত্তি, ব্রিটেনে জরুরি ফোন অ্যালার্টে বিশৃঙ্খলা
ভয়েস অব পিপল নিউজ, ১৫ আগস্ট:
ব্রিটেনে ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করতে সরকারের পাঠানো জরুরি ফোন অ্যালার্টই এবার তৈরি করেছে নতুন বিভ্রান্তি। একই সতর্কবার্তা অনেক মানুষের ফোনে একাধিকবার পৌঁছানোর পাশাপাশি ওয়েলসে প্রথমে ওয়েলশ ভাষায় বার্তা পাঠানো নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
শুক্রবার রাতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিপুলসংখ্যক মানুষের মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এতে দাবানলের ঝুঁকির কারণে এমন কোনো কাজ না করতে বলা হয়, যাতে আগুন লাগতে পারে—এর মধ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ার পিট, বাগানের আগুন কিংবা আতশবাজির মতো কর্মকাণ্ডও ছিল।
কিন্তু বার্তা পাওয়ার পর অনেক মানুষের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্ক। বিশেষ করে ওয়েলসে ইংরেজি সংস্করণের আগে ওয়েলশ ভাষায় সতর্কবার্তা পৌঁছানোয় অনেকে বুঝতেই পারেননি কী ঘটছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে জানান, হঠাৎ উচ্চ শব্দে অ্যালার্ট বেজে ওঠার পর ফোনের পর্দায় এমন একটি ভাষার বার্তা দেখা যায়, যা তারা পড়তে পারেন না। ইংরেজি বার্তা কয়েক মিনিট পর পৌঁছায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একই ধরনের সতর্কবার্তা কিছু মানুষের ফোনে একাধিকবার আসে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা তিন থেকে পাঁচবার পর্যন্ত অ্যালার্ট পেয়েছেন। এতে অনেকেই জরুরি সতর্কতা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে জরুরি অ্যালার্ট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া। ব্রিটেনে মোবাইল-ভিত্তিক জরুরি অ্যালার্ট ব্যবস্থা মূলত নির্দিষ্ট এলাকায় জীবনহানির ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে দ্রুত জানাতে চালু করা হয়েছিল।
সরকারের এই ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়েও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলীয় সমালোচকেরা বলছেন, জরুরি অ্যালার্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি থাকা উচিত। দাবানলের ঝুঁকি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে এমন সতর্কবার্তা পাঠানো সেই কঠোর মানদণ্ড পূরণ করেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সতর্কতা ব্যবহারের পেছনে যুক্তি হলো, ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে তাপপ্রবাহ, শুষ্ক আবহাওয়া ও দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ে ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের দাবানল দেখা যায় এবং ওয়েলসেও আগুন মোকাবিলায় সংকট পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের মতো ঝুঁকিতে মানুষের আচরণ দ্রুত পরিবর্তন করানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে সতর্কবার্তা হতে হবে স্পষ্ট, সহজবোধ্য এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারি গবেষণাতেও বলা হয়েছে, দাবানলসহ একাধিক আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির সময়ে জনগণের জন্য বার্তা সমন্বিত, সহজবোধ্য এবং বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে একইভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, জীবন রক্ষার জন্য তৈরি জরুরি অ্যালার্ট ব্যবস্থা যদি একদিকে মানুষের ফোনে বারবার বাজে, অন্যদিকে কেউ বার্তার ভাষা বুঝতে না পারেন—তাহলে প্রকৃত জরুরি পরিস্থিতিতে এর কার্যকারিতা কতটা থাকবে।
দাবানলের আগুন হয়তো কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু জরুরি সতর্কবার্তার প্রতি মানুষের আস্থা একবার নষ্ট হলে সেটি ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন।