বাংলাদেশ সংবাদ

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদি-তুরস্কের মনোভাব ইতিবাচক

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদি-তুরস্কের মনোভাব ইতিবাচক

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩১ আগস্ট:

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের মনোভাব ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা চলছে এবং আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলে বিষয়টি জানানো হবে।

৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল নীতি হলো, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। বর্তমানে চুক্তিটির প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে তিন দেশ কাজ করছে।

মক্কা চুক্তির প্রধান শর্তগুলো হচ্ছে:

  • কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
  • সদস্য দেশগুলো সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে।
  • তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানো হবে।
  • প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্প ও যৌথ উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
  • চুক্তিটি নিজেদের ঘোষণামতে প্রতিরক্ষামূলক, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
  • অন্য দেশগুলোও চুক্তির নীতিতে সম্মত হলে ভবিষ্যতে এতে যোগ দিতে পারবে
  • চুক্তিটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বা দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে বাতিল করে না।

রোববার (৩১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের অবস্থান ইতিবাচক। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন তাহলে কী লাভ আছে।” তাঁর মতে, এটি একটি অনন্য উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে এবং এতে তিনি কোনো ঝুঁকি দেখছেন না।

তবে বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির সদস্য হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান এর আগে সংসদে জানিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।