ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

নেপাল-তিব্বতের ভয়াবহ বন্যা: নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৪৮

নেপাল-তিব্বতের ভয়াবহ বন্যা: নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৪৮

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩০ আগস্ট:

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের নতুন প্রকাশিত তথ্যের পর নিখোঁজের তালিকায় আরও ১৫ ব্রিটিশ নাগরিকের নাম যুক্ত হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানির ঢল নেপাল-চীন সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাণ্ডব চালায়। নদীর পানি মুহূর্তের মধ্যে কয়েক মিটার বেড়ে গিয়ে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং তাদের স্বজনদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি বলে বিভিন্ন সরকারি হিসাব থেকে জানা যাচ্ছে।

নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ছিলেন পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। বিশেষ করে তিব্বতের কৈলাস পর্বত এলাকায় যাওয়া বিদেশি পর্যটকদের অনেকের সঙ্গে বন্যার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্রিটিশ নাগরিকদের কয়েকটি দলও সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ পানির ঢলের মধ্যে আটকা পড়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে নতুন বিপদের মুখে পড়ছেন উদ্ধারকারীরাও। পাহাড়ি এলাকায় আরও বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও বন্যার পানিতে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী জলাধার, যেগুলো ভেঙে গেলে নতুন করে ভয়াবহ পানির ঢল নামতে পারে। ফলে নিখোঁজদের উদ্ধারের পাশাপাশি সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার দুর্যোগ ঠেকানোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্য সরকারও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের কোনো খবরের অপেক্ষায় উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ের দ্রুত উষ্ণায়ন ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়া, হিমবাহ ধস এবং আকস্মিক বন্যার প্রবণতা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

নেপাল ও তিব্বতের এই ট্র্যাজেডি তাই শুধু একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়—হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিরও নতুন সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।