ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

আইফোন কেনার জন্য নিজের সন্তানকে ১ লাখে বিক্রি করলো পাষান্ড বাবা!

আইফোন কেনার জন্য নিজের সন্তানকে ১ লাখে বিক্রি করলো পাষান্ড বাবা!

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩১ আগস্ট:

একজন বাবা তাঁর সন্তানকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। দেড় বছরের ছোট্ট মুসার কাছে সেটি হয়তো ছিল বাবার সঙ্গে একটি সাধারণ দিনের মতোই। কে জানত, সেই বেরিয়ে যাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের শুরু!

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, দেড় বছরের শিশুপুত্র মুসাকে এক লাখ টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন তার বাবা মো. মারুফ মুন্সি। এরপর সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে ঢাকায় গিয়ে তিনি কিনেছেন নতুন আইফোন।

ঘটনার পর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সকালে মারুফ তাঁর মা মাহফুজা বেগমকে বলেন, ছেলে মুসাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন। দাদির কাছে নাতিকে সাজিয়ে দেওয়াটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। একজন মা কী করে ভাববেন—নিজের ছেলে তাঁর কাছ থেকে নাতিকে নিয়ে গিয়ে তাকে অন্যের হাতে তুলে দেবেন?

সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা। কিন্তু মুসা আর ফিরে আসে না।

উদ্বিগ্ন স্বজনরা তখন খোঁজ শুরু করেন। নানা জায়গায় যোগাযোগের পর শিশুটির মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে মারুফের সঙ্গে কথা হয়। তখনই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ অভিযোগের কথা।

জানা যায়, আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে শিশুটিকে এক লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে। ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় আলোচনা করে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে নেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগের আরও ভয়াবহ দিক হলো—শিশুকে দেওয়ার পর মারুফ ঢাকায় গিয়ে পুরোনো ফোন বদলে নতুন একটি আইফোন কেনেন বলে পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

একটি শিশুর কাছে পৃথিবী মানেই তার বাবা-মা। তার কাছে টাকা কী, আইফোন কী—এসবের কোনো অর্থ নেই। সে শুধু জানে, বাবার হাতটি নিরাপদ। সেই হাতই যদি তাকে অচেনা মানুষের কাছে তুলে দেয়, তাহলে সেই শিশুর পৃথিবীটা কতটা অনাথ হয়ে যায়—তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

মারুফের মা মাহফুজা বেগম জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক মাস আগে মারুফের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপরই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে দশমিনা থানার পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এখন পরিবারের একটাই অপেক্ষা—মুসা ফিরে আসুক।

দেড় বছরের শিশুটি হয়তো এখনো জানে না, তাকে কেন অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সে হয়তো মায়ের মুখ খুঁজছে, দাদির কোলে ফিরতে চাইছে। হয়তো বাবাকে দেখলে আবার আগের মতোই হাত বাড়িয়ে দেবে।

কিন্তু সেই হাত এবার কোথায়?

একটি আইফোনের জন্য যদি সত্যিই একটি শিশুর শৈশবকে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি পরিবারের tragedy নয়—এটি আমাদের সমাজের বিবেকের জন্যও এক ভয়াবহ প্রশ্ন।

মুসাকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।