বাংলাদেশ সংবাদ

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের সামনে ফুটপাত দখল, দোকানপ্রতি দিনে ৩০০–৮০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের সামনে ফুটপাত দখল, দোকানপ্রতি দিনে ৩০০–৮০০ টাকা চাঁদার অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩০ আগস্ট:

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়ক ও ফুটপাত যেন দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় শত শত দোকান। কোথাও খাবারের দোকান, কোথাও নানা পণ্যের পসরা, আবার কোথাও নার্সারি। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান বসানো এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিনিময়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানের আকার ও অবস্থানভেদে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। শুধু দৈনিক টাকা নয়, নতুন করে দোকান বসানোর সময় এককালীন মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ফুটপাত দখল শুধু পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে না, এর সঙ্গে গড়ে উঠেছে অর্থ আদায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের ফুটপাতের বড় অংশ দোকানিদের দখলে। দোকানের পণ্য ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের কিনারায় চলে এসেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেককেই বাধ্য হয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সকাল থেকে ছুটির সময় পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে ফুটপাত দখল, অন্যদিকে সড়কের একটি অংশে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সামান্য যানবাহন চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

একই চিত্র দেখা গেছে আশপাশের এলাকাতেও। টিএন্ডটি স্কুলের সামনে এবং কলোনি এলাকার ফুটপাতের একাংশে নার্সারি ব্যবসা গড়ে উঠেছে। টব, গাছের চারা, মাটি ও অন্যান্য সামগ্রী ফুটপাতের ওপর রাখায় পথচারীদের চলাচলের জায়গা আরও কমে গেছে। কোথাও এসব সামগ্রী সড়কের অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকেই নিয়মিত টাকা নেওয়া হয়। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তি এসব টাকা সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগে সবুজ, ইমন, নূরুল আফসার, ফারুক, শাহজালাল মোল্লা, তানজিল, শাহীন ও জুয়েলসহ কয়েকজনের নাম এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চললেও বছরের পর বছর কীভাবে তা সম্ভব হচ্ছে? আর যদি দোকান বসানোর বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কারা নিচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—তা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না কেন?

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সন্তানকে নিয়ে স্কুলের সামনে হাঁটাটাই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই, আবার সড়কের পাশেও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে শিশুদের নিয়ে যানবাহনের ভিড়ের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়। দখলের পেছনে যারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে উচ্ছেদের পরপরই আবার দোকান বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আইডিয়াল স্কুলের সামনের এই চিত্র তাই কেবল ফুটপাত দখলের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনদুর্ভোগ, যানজট এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র বের করা। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে চাঁদা আদায়কারী ও তাদের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।