বাংলাদেশ সংবাদ
৬৪ জেলার দায়িত্বে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ, সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৩০ আগস্ট :
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সরকারি কার্যক্রম তদারক ও সমন্বয়ের দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের মধ্যে ৬৪ জেলার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। কাউকে একটি, আবার কাউকে একাধিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তদারক ও সমন্বয় করবেন।
তবে তাদের সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনসম্মত সংস্থার নিজস্ব ক্ষমতা বহাল রেখেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তদারকি ও সমন্বয়ের কাজ করবেন।
সরকারের যুক্তি হলো, জেলা পর্যায়ে সরকারি কর্মকাণ্ডে সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানো গেলে দুর্নীতি, অপরাধ, মাদক এবং প্রশাসনিক অনিয়ম মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের সমস্যা দ্রুত সরকারের নজরে আসবে।
কিন্তু এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের ১১ জন সংসদ সদস্য। তারা রোববার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আবেদনটি করেন। রিটের শুনানি হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে হওয়ার কথা রয়েছে।
রিটকারীদের আইনজীবীর দাবি, এর আগে ২০০১ সালেও একই ধরনের জেলা-ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। সে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে করা রিটে হাইকোর্ট দায়িত্ব বণ্টনের ওই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমান সিদ্ধান্তও সংবিধান ও উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেটিই আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ফলে একদিকে সরকার মাঠ প্রশাসনে রাজনৈতিক পর্যায়ের তদারকি ও সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে সেই উদ্যোগের সাংবিধানিক বৈধতা এখন আদালতে পরীক্ষা হবে।
জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং হাইকোর্ট এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন—এখন সেদিকেই নজর।