ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ইংল্যান্ডে ৪০ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের জন্য ফার্মেসিতেই বিনামূল্যে কোলেস্টেরল পরীক্ষা চালু হচ্ছে
ভয়েস অব পিপল স্বাস্থ্য ডেস্ক, ১ সেপ্টেম্বর:
ইংল্যান্ডে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে হাই স্ট্রিটের ফার্মেসিগুলোতে বিনামূল্যে কোলেস্টেরল পরীক্ষা চালু করতে যাচ্ছে NHS।
চলতি শরৎ থেকেই প্রায় ১০০টি NHS-সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিতে পরীক্ষাটি শুরু হবে। ৪০ থেকে ৮৪ বছর বয়সী যেসব মানুষ গর্ভবতী নন এবং গত এক বছরে রক্ত পরীক্ষা করাননি, তারা এই সুবিধা নিতে পারবেন।
পরীক্ষাটির জন্য হাসপাতালে বা জিপির কাছে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। আঙুলে সামান্য ছিদ্র করে নেওয়া রক্তের নমুনা দিয়ে প্রায় সাত মিনিটের মধ্যেই কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা যাবে। এরপর ফার্মাসিস্ট রোগীর ফলাফল দেখে প্রয়োজনীয় জীবনযাপনসংক্রান্ত পরামর্শ দেবেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারবেন। পরীক্ষার ফল ই-মেইলেও পাঠানো হবে।
শুধু কোলেস্টেরল নয়, একই ক্লিনিক্যাল পরামর্শের অংশ হিসেবে রোগীর রক্তচাপও পরীক্ষা করা হবে। অর্থাৎ একবার ফার্মেসিতে গেলেই হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঝুঁকি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।
NHS England বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এমন মানুষকে দ্রুত শনাক্ত করা, যাদের হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি হলেও তারা এখনো কোনো উপসর্গ অনুভব করছেন না। কারণ উচ্চ কোলেস্টেরল সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ তৈরি করে না; রক্ত পরীক্ষা ছাড়া অনেক সময় এটি বোঝার উপায় থাকে না।
এর আগে উত্তর লন্ডনে এই পদ্ধতির একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৬১টি কমিউনিটি ফার্মেসিতে ২,৪৯৩ জনের পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশের ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা পাওয়া যায় এবং ৮৮ জনকে স্ট্যাটিন দেওয়া শুরু করা হয়।
NHS-এর নতুন উদ্যোগটি ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত পাইলট কর্মসূচি হিসেবে চলবে। সফল হলে এর পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
NHS England-এর মতে, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকে মৃত্যুহার আগামী এক দশকে এক-চতুর্থাংশ কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ফার্মেসিতে এই পরীক্ষা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা ধীরে ধীরে জিপি সার্জারি ও হাসপাতালকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে মানুষের বাড়ির কাছাকাছি নিয়ে আসার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটিও তার অংশ।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোলেস্টেরল বেশি পাওয়া মানেই কেউ হৃদ্রোগে আক্রান্ত, এমন নয়। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্ট বয়স, রক্তচাপ, অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কোলেস্টেরলের ফল একসঙ্গে বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন। প্রয়োজন হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, চিকিৎসা বা আরও পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ততা বা জিপি অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষার কারণে যারা পরীক্ষা পিছিয়ে দেন, তাদের জন্য স্থানীয় ফার্মেসিই এখন হৃদ্স্বাস্থ্যের ঝুঁকি জানার আরও সহজ একটি দরজা হয়ে উঠতে পারে।