ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ব্রেক্সিটের ভুল থেকে ফিরতে চায় ব্রিটেন, ইইউতে ফেরার পক্ষে র‍্যাচেল রিভস

ব্রেক্সিটের ভুল থেকে ফিরতে চায় ব্রিটেন, ইইউতে ফেরার পক্ষে র‍্যাচেল রিভস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১ নভেম্বর  :

ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরতে হবে বলে মনে করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, ইইউ ছাড়ার সিদ্ধান্তে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল এবং নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি ডেকে এনেছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেই খুঁজছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ব্রেক্সিট ব্রিটেনকে ‘আরও দরিদ্র, দুর্বল ও কম নিরাপদ’ করেছে। তাই শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়াই হওয়া উচিত দেশটির লক্ষ্য।

রোববার প্রকাশিত সানডে টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে রিভস ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনার পক্ষে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

রিভস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে শুধু সম্পর্ক উন্নত করাই যথেষ্ট নয়। তাঁর বিশ্বাস, ব্রিটেনের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেই নিহিত।

তবে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার পক্ষে যারা অবস্থান করছেন, তাঁদের দায়িত্বশীলভাবে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল কী হবে, তা বাস্তব তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।

রিভসের এই বক্তব্য ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন করে ব্রেক্সিট বিতর্ক উসকে দিতে পারে। কারণ, ২০১৬ সালের গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দেওয়ার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্য। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অভিবাসন ব্যবস্থায় নানা জটিলতা তৈরি হয়।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও এখন ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে চাইছেন। আগামী ২০ নভেম্বরের যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্য, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য এবং তরুণদের চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়ে সমঝোতা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে তরুণদের জন্য একটি পারস্পরিক চলাচল কর্মসূচি চালুর বিষয়ে অগ্রগতি চায় ব্রিটিশ সরকার। এর আওতায় যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরুণদের নির্দিষ্ট শর্তে একে অপরের দেশে বসবাস, পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে সিকিউরিটি অ্যাকশন ফর ইউরোপ (সেফ) কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি চান রিভস। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ এই কর্মসূচি। এতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে ইইউতে পূর্ণ সদস্যপদ ফিরে পাওয়া, একক বাজারে পুনরায় যুক্ত হওয়া কিংবা কাস্টমস ইউনিয়নে প্রবেশ—কোন পথে ব্রিটেন এগোবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত জনগণের মতামতই গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিষয়টি পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্তের জন্যও রেখে দেওয়া হতে পারে।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এ নিয়ে মতবিরোধও রয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকের নেতারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে লেবার পার্টির মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে একক অবস্থান নেই।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে লেবার পার্টি স্পষ্টভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছিল। সেই দলের সাবেক অর্থমন্ত্রীর মুখে এখন ইইউতে ফেরার পক্ষে এমন প্রকাশ্য বক্তব্য ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ব্রেক্সিটের এক দশক পর প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষা করেছে? নাকি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটিকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে? র‍্যাচেল রিভসের বক্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।