‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে চরম বিক্ষোভ
ভারত প্রতিনিধি, ১ নভেম্বর :
ভারতের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। রোববার কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ডাকে আয়োজিত সমাবেশে কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন। ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগ ও অভিশংসনের দাবি জানান বিরোধী নেতারা।
সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিরোধীরা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেবে না।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির আওতায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাঁদের দাবি, এতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নাম তুলনামূলক বেশি বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দিল্লির সমাবেশকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধীদের অন্যতম বড় শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও কংগ্রেস নেতারা ১০ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করেছিলেন, বাস্তবে উপস্থিতি ছিল কয়েক দশ হাজার। সমাবেশস্থলে খালি আসনও দেখা গেছে।
এদিকে তরুণদের নেতৃত্বে ‘ককরোচ’ নামে পরিচিত আন্দোলনও ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে সক্রিয় হয়েছে। আন্দোলনের নেতারা বিরোধীদের সমাবেশে সমর্থন জানালেও সরাসরি অংশ নেননি। ফলে প্রতিষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে তরুণ আন্দোলনকারীদের দূরত্ব এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডা বিরোধীদের এই সমাবেশকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি।
ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনের আগে ভারতের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলাই বিরোধী জোটের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।