তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পেতে ১০ বছর অপেক্ষা, শর্তসাপেক্ষে পাঁচ বছরের সুবিধা থাকছে কেয়ার কর্মীদের

যুক্তরাজ্যে আইএলআর পেতে ১০ বছর অপেক্ষা, শর্তসাপেক্ষে পাঁচ বছরের সুবিধা থাকছে কেয়ার কর্মীদের

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২ নভেম্বর:

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঘোষণা করেছে লেবার সরকার। অধিকাংশ অভিবাসীর ক্ষেত্রে বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কেয়ার কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরেই স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। ২ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে নতুন এই অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেন।

নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’। অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট সময় বসবাস করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকবে না; বরং আবেদনকারীর আয়, কাজ, সামাজিক অবদান, ইংরেজি দক্ষতা এবং আইন মেনে চলার বিষয় বিবেচনা করা হবে।

কারা পাঁচ বছরে আইএলআর পাবেন?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে প্রকাশিত ইমিগ্রেশন হোয়াইট পেপারের আগে কেয়ার কর্মী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আসা বা সংশ্লিষ্ট ভিসায় পরিবর্তন করা ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা ভিসার শর্ত মেনে চলেছেন এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করেছেন, তাঁদের জন্য পাঁচ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ বহাল থাকবে।

যাঁরা এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের একটি অতিরিক্ত পাঁচ বছরের কেয়ার ভিসার সুযোগ দেওয়া হবে। এই সময় তাঁরা বৈধ নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাস পেতে আরও সময় লাগতে পারে।

অন্য অভিবাসীদের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন?

নতুন নিয়মে সাধারণত ১০ বছর পর আইএলআরের আবেদন করা যাবে। তবে বেশি আয় ও নির্দিষ্ট পেশাগত অবদানের ভিত্তিতে সময় কমানোর সুযোগ থাকবে।

  • বছরে ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয়কারীদের জন্য তিন বছরের পথ।
  • বছরে ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ডের বেশি আয়কারী এবং নির্দিষ্ট সরকারি জনসেবামূলক পেশার কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ।
  • সাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য ১০ বছর।
  • অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হবে।

চিকিৎসক, নার্স ও শিক্ষকদের মতো নির্দিষ্ট জনসেবামূলক পেশার কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

স্থায়ী বসবাসের নতুন শর্ত

আইএলআরের আবেদনকারীদের জন্য ৪টি মৌলিক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। এগুলো হলো—

১. অপরাধের রেকর্ড না থাকা,

২. উচ্চমানের ইংরেজি দক্ষতা,

৩. সরকারের কাছে কোনো বকেয়া ঋণ না থাকা এবং

৪. ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্সে নিয়মিত অবদানের প্রমাণ থাকা।

এসব শর্ত পূরণ না হলে নির্ধারিত সময় পার হলেও আবেদন গ্রহণে বাধা তৈরি হতে পারে।

শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও আলাদা বিধান রয়েছে। নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ রাখা হলেও অন্য পথে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অবৈধভাবে ছোট নৌকায় প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।

কত মানুষ প্রভাবিত হবেন?

দ্য গার্ডিয়ানের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার কেয়ার কর্মী এবং তাঁদের ১ লাখ ৩৬ হাজার নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য পাঁচ বছরের পথ ধরে রাখার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে প্রায় এক লাখ কেয়ার কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ বছরের ভিসার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

সরকারের ধারণা, নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় বর্তমান পাঁচ বছরের তুলনায় বাড়বে।

কবে থেকে কার্যকর হবে?

সরকার জানিয়েছে, নতুন বিধিগুলো ডিসেম্বরের ইমিগ্রেশন রুলসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ২০২৭ সালজুড়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে এখনই সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেয়ার খাতে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করতে পারে তাঁরা কোন সময়ে ভিসা পেয়েছেন, কী ধরনের ভিসায় আছেন, কত আয় করছেন এবং ভিসার শর্ত কতটা মেনে চলেছেন তার ওপর। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসের আগের ও পরের আবেদনকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সরকার একদিকে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথ কঠিন করছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতে ইতোমধ্যে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের একটি অংশকে ছাড় দিচ্ছে। তবে নতুন নিয়মের বিস্তারিত প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত আবেদনের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য হোম অফিসের চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।