ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩ মে : 

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী কিছু বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। সাম্প্রতিক ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও অ্যান্টিসেমিটিজম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেওয়া তার মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি বিবিসি রেডিও ৪–এর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রো-প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে, যেমনটা ফ্রান্সে করা হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে কিছু বিক্ষোভে ব্যবহৃত “globalise the Intifada” স্লোগানকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এসব শুনে মানুষের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—“আমি কেন এটা নিন্দা করছি না?”

তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সরকারের ভেতর ও বাইরে অনেকেই এটিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সীমিত করার দিকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

যুক্তরাজ্যের আইনমন্ত্রী ডেভিড লামি এক লিখিত মন্তব্যে বলেন, দেশে বর্তমানে “ভয়ের এক ধারাবাহিক পরিস্থিতি” তৈরি হয়েছে এবং অ্যান্টিসেমিটিজম নিঃসন্দেহে বর্ণবৈষম্য। তিনি জানান, ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থা দ্রুত ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে সরকারের স্বাধীন অ্যান্টিসেমিটিজম উপদেষ্টা বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে হওয়া বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা “অগ্রহণযোগ্য” হবে। একই সঙ্গে কিছু নিরাপত্তা ও ধর্মীয় নেতাও সতর্কতা জারি করেছেন।

চিফ রাব্বি স্যার এফ্রাইম মিরভিস বলেন, সাম্প্রতিক মিছিলগুলো ইহুদিবিদ্বেষী পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলে উদ্বেগ আছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ক ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সীমিত করা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও বিভক্তি দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সমর্থন জানালেও অন্যরা বলছেন, সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায় এখন ইতিহাসের অন্যতম বড় হুমকির মুখে রয়েছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক ছুরিকাঘাত ও হামলার ঘটনার পর।

সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বাকস্বাধীনতা এবং অ্যান্টিসেমিটিজম মোকাবিলার নীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার বলছে ঘৃণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর সমালোচকরা বলছেন, এতে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।