স্টারমার সরকারের সময়ে রেকর্ড অপসারণ—৬০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে নিজ দেশে

স্টারমার সরকারের সময়ে রেকর্ড অপসারণ—৬০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে নিজ দেশে

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬  ফেব্রুয়ারি : 

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার অননুমোদিত অভিবাসী ও বিদেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা তারা স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন। গত এক দশকে এটি সবচেয়ে বড় অপসারণ অভিযান বলে দাবি করেছে তারা।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী,

  • ১৫,২০০ জনকে জোরপূর্বক অপসারণ,
  • ৪৩,০০০ জনকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত,
  • আর ৮,৭০০ বিদেশি অপরাধীকে বহিষ্কার করা হয়েছে—যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হোম অফিস সম্প্রতি একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে, যেখানে পূর্ব ইউরোপগামী একটি ফ্লাইটে আটক ব্যক্তিদের তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখা যায় (মুখ ঝাপসা করা ছিল)।

সরকারের কঠোর অবস্থান

হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেছেন, অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। তার ভাষায়,
“যাদের এই দেশে থাকার অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠাতে যা প্রয়োজন, আমরা তা করব।”

স্টারমার সরকার ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ কমানো, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের অবসান এবং আপিল প্রক্রিয়া কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা ২০০টিরও কম, যেখানে আগের সরকারের সময়ে তা ছিল প্রায় ৪০০

সমালোচকদের অভিযোগ: ‘অভিবাসীদের অপরাধী বানানো হচ্ছে’

অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো সরকারের এই নীতিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছে।

প্র্যাক্সিস–এর প্রধান নির্বাহী মিনি রহমান বলেন,
“যাদের ‘বিদেশি অপরাধী’ বলা হচ্ছে, তাদের অনেকেই সারা জীবন যুক্তরাজ্যেই বড় হয়েছে। সরকার অভিবাসনকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে ক্ষতিকর ও বর্ণবাদী ধারণা ছড়াচ্ছে—এটি অন্যায় ও বিভাজন সৃষ্টি করে।”

জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইমিগ্র্যান্টস–এর মুখপাত্র গ্রিফ ফেরিস বলেন,
“ডানপন্থী ভোটারদের খুশি করতে সরকার নিষ্ঠুর নীতি চালিয়ে যাচ্ছে। গণহারে মানুষকে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল করার চেষ্টা—দুটোই ভয়ংকর।”

ফ্রিডম ফ্রম টর্চার–এর পরিচালক নাতাশা স্যাঙ্গারাইডেস সতর্ক করে বলেন,
“ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ দুর্বল করা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় বিপজ্জনক প্রভাব ফেলতে পারে। নির্যাতনমুক্ত জীবনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এটা আমাদের দেশের মূল্যবোধ নয়।”