ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোই কি অপরাধ?

৮৪ বছরের ধর্মযাজকের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশের অভিযান

৮৪ বছরের ধর্মযাজকের বাড়িতে ব্রিটিশ পুলিশের অভিযান

লন্ডন, ৫ সেপ্টেম্বর:

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে এবার ব্রিটিশ পুলিশের অভিযানের মুখে পড়লেন ৮৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ধর্মযাজক সু পারফিট। শুক্রবার তাঁর বাড়িতে পুলিশের অভিযানকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক প্রতিবাদ কোথায় শেষ হবে, আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কোথায় টানা হবে?

আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (ডিওজে) জানিয়েছে, পারফিট অতীতে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এর আগে বুধবার পরিবেশবাদী আন্দোলন ‘জাস্ট স্টপ অয়েল’-এর সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেও অংশ নেন তিনি। এরপরই তাঁর বাড়িতে পুলিশের অভিযান চালানো হয় বলে সংগঠনটির দাবি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে ঘিরে আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের অভিযোগে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সরকারকে চাপ দিচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের নামে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পরিসরও সংকুচিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, ধর্মযাজক ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ক্ষেত্রেও পুলিশি তদন্তের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সহযোগিতা বা সমর্থনের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। ফলে এখন বিতর্কের কেন্দ্রে শুধু একটি সংগঠন নয়; বরং প্রতিবাদ করার অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের ভারসাম্যও উঠে এসেছে।

পারফিটের ঘটনা এই বিতর্ককে আরও প্রতীকী করে তুলেছে। ৮৪ বছর বয়সী একজন অবসরপ্রাপ্ত ধর্মযাজকের বাড়িতে পুলিশের অভিযান অনেকের কাছে প্রশ্ন তুলছে—রাষ্ট্র কোনো আন্দোলনের সমর্থনকে কখন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সীমানাই বা কোথায়?

এ ঘটনায় আরেকটি বিষয়ও স্পষ্ট—ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন এখন ঘরের ভেতরেও পৌঁছে গেছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানকে ইহুদি পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা যেমন ভুল, তেমনি ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনাকে বিশ্বের ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখাও বিভ্রান্তিকর।

ব্রিটেনে পারফিটের বাড়িতে পুলিশের অভিযান তাই কেবল একজন প্রবীণ ধর্মযাজককে ঘিরে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের নতুন অধ্যায়।