বাংলাদেশ সংবাদ

যে ছেলের পাশে ঘুমিয়েছিলেন, ভোরে সেই ছেলের হাতেই খুন হলেন জন্মদাতা পিতা

যে ছেলের পাশে ঘুমিয়েছিলেন, ভোরে সেই ছেলের হাতেই খুন হলেন জন্মদাতা পিতা

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৫ সেপ্টেম্বর:

রাতের শেষ প্রহরে একই ঘরে পাশাপাশি ঘুমিয়ে ছিলেন বাবা ও ছেলে। কেউ ভাবেনি, কয়েক ঘণ্টা পর সেই ঘরেই নিথর পড়ে থাকবে বাবার রক্তাক্ত দেহ। ঘুমন্ত অবস্থায় বাবাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সেই ছেলের বিরুদ্ধেই। বাবাকে বাঁচাতে ছুটে এসে আহত হয়েছেন মা ও ছোট ভাই। ভোরের আলো ফোটার আগেই একটি পরিবার যেন হঠাৎ হারিয়ে ফেলল তার সবচেয়ে নির্মম রাতের স্মৃতি।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শুক্রবার ভোররাতে ঘটেছে এ মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) পেশায় ছিলেন ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা। অভিযুক্ত তাঁর বড় ছেলে শাকিল চৌধুরী (৩৫)। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে বাবা-ছেলে একই ঘরে ঘুমাতে যান। তখন তাঁদের মধ্যে কোনো ঝামেলার কথা জানা যায়নি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ ওই ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। অন্ধকার ঘরে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, আব্দুল বাছেদ মিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।

অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় মা সখিনা বেগম ও ছোট ছেলে নুরুন্নবী রাশেদ বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলার চেষ্টা করা হয়। এতে দুজন আহত হন।

পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে শিবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শাকিলের বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে বের হন। ঘটনার পর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

একই ঘরে পাশাপাশি ঘুমানো—তারপর সেই ঘরেই বাবার মৃত্যু। স্বজনদের কাছে রাতের এই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান যেন বিশ্বাস করার মতো নয়। যে ঘরটি ছিল বিশ্রামের, সেখানেই ভোরের আগে ছড়িয়ে পড়ল রক্ত; আর বাবার জীবন থেমে গেল তাঁরই সন্তানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নির্মমতায়।