ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
দিনে আট গ্লাস পানি—সবার জন্য কি সত্যিই দরকার?
স্বাস্থ্য ডেস্ক, ৫ সেপ্টেম্বর:
পানি ছাড়া জীবন চলে না। কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করা উচিত—এ প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য এক নয়। ‘দিনে আট গ্লাস পানি’ বহুদিনের প্রচলিত ধারণা হলেও বাস্তবে একজন মানুষের পানির প্রয়োজন নির্ভর করে বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, খাবারের ধরন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন, হজমপ্রক্রিয়া এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় পানি কমে গেলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় কিংবা দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম করলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি তরল বেরিয়ে যায়। তখন পানির প্রয়োজনও বাড়ে।
প্রাপ্তবয়স্কদের পানির চাহিদা বোঝার ক্ষেত্রে ওজন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। একটি প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিলিলিটার তরল প্রয়োজন হতে পারে। সেই হিসাবে ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ক্ষেত্রে প্রায় ১ দশমিক ৮ থেকে ২ দশমিক ১ লিটার তরল প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি কোনো সবার জন্য প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক সীমা নয়। খাবার থেকেও শরীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পায়।
শিশুদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যেতে পারে। ফলে শুধু তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষায় থাকলে অনেক সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নাও হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরে তরলের চাহিদা বাড়তে পারে। একইভাবে জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ায় শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট দ্রুত বেরিয়ে যায়। এসব পরিস্থিতিতে শুধু সাধারণ পানি নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরের তরল ও লবণের ঘাটতি পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে পানি পানেও ‘যত বেশি তত ভালো’ নীতি প্রযোজ্য নয়। অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এ অবস্থাকে হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, বমি, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
কিডনি বা হৃদ্যন্ত্রের কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত তরল গ্রহণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কতটুকু পানি পান করা যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অর্থাৎ, পানি কম পান করা যেমন সমস্যা, তেমনি শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে অযথা বেশি পানি পান করাও নিরাপদ নয়। তাই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা মুখস্থ করার বদলে নিজের শারীরিক অবস্থা, পরিবেশ ও কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
সুস্থ থাকার সহজ নিয়ম—পানি প্রয়োজনমতো, অতিরিক্ত নয়।