ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
পিঠে চুলকানি, পকেটে ১৮ লাখ! চীনা যুবকের অভিনব ব্যবসা
বিচিত্র খবর ডেস্ক, ৫ সেপ্টেম্বর:
নিজের পিঠ চুলকাতে না পারার সমস্যাকেই ব্যবসার সুযোগ বানিয়েছেন চীনের ৩২ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ঝাং শাওছিয়াও। শেনজেন শহরে ‘সুমা’ নামে স্পা-ধাঁচের প্রতিষ্ঠান খুলে এখন মাসে প্রায় ১ লাখ ইউয়ান, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।
ব্যবসার ধরন শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠতে পারে। এখানে নেই সাধারণ ম্যাসাজ, নেই সৌন্দর্যচর্চার জটিল আয়োজন। গ্রাহক শুয়ে থাকবেন, আর প্রশিক্ষিত কর্মীরা বিশেষ কৌশলে তাঁর পিঠ চুলকে দেবেন। এক ঘণ্টার এই ‘আরামসেবা’র জন্য দিতে হয় ৩০০ ইউয়ান, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকা।
শেনজেনের বাওআন ও ফুতিয়ান এলাকায় ইতিমধ্যে দুটি শাখা চালু করেছেন ঝাং। অল্প সময়েই ব্যবসাটি লাভজনক হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রধান গ্রাহকদের বড় একটি অংশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মী—দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা আর মানসিক চাপ থেকে একটু স্বস্তি পেতেই তাঁরা আসছেন।
গ্রাহকদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। প্রায় ৭০ শতাংশ পুরুষ, নারী ৩০ শতাংশ।
অদ্ভুত এই ব্যবসার ধারণাটি অবশ্য হঠাৎ করে মাথায় আসেনি ঝাংয়ের। একটি অনলাইন ভিডিও তাঁকে ভাবিয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শৈশবের স্মৃতি—বাবার পিঠ চুলকে দেওয়ার সেই পরিচিত অনুভূতি।
সেই স্মৃতিকেই ব্যবসায়িক ধারণায় রূপ দেন তিনি। কর্মীদের জন্য তৈরি করেন বিশেষ প্রশিক্ষণ। উদ্দেশ্য শুধু পিঠের চুলকানি দূর করা নয়; নির্দিষ্ট কৌশলে পিঠ চুলকানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের আরাম দেওয়া এবং ঘুমে সহায়তা করাই সেবাটির অন্যতম লক্ষ্য।
ঝাংয়ের ব্যবসার সাফল্য এখন তাঁকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পর তাঁর লক্ষ্য চীনের বিভিন্ন শহরে ১০০টি শাখা খোলা। একই সঙ্গে পিঠ চুলকানোর এই কাজকে তিনি একটি নিয়মিত ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করতে চান।
অর্থাৎ, অন্যের পিঠে হাত চালিয়েই যদি মাসে ১৮ লাখ টাকা আয় করা যায়, তাহলে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব সময় নতুন প্রযুক্তি বা বিশাল কারখানা দরকার হয় না—কখনো কখনো মানুষের ‘একটু চুলকিয়ে দিন তো!’ চাহিদাটিও হতে পারে বড় ব্যবসার সূত্র।