সিলেট সংবাদ

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সেবার আড়ালে অনিয়ম আর ভোগান্তি

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে সেবার  আড়ালে অনিয়ম আর ভোগান্তি

সিলেট প্রতিনিধি, ৫ সেপ্টেম্বর :

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু একটি হাসপাতাল নয়—বৃহত্তর সিলেটের মানুষের কাছে এটি শেষ ভরসার নাম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার আশায় এখানে আসেন। কেউ জরুরি রোগী নিয়ে ছুটে আসেন, কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে, কেউ আবার দূর-দূরান্ত থেকে রাতভর পথ পাড়ি দিয়ে।

কিন্তু মানুষের এই নির্ভরতার জায়গাটিতেই যদি একের পর এক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দালালচক্র, নিম্নমানের খাবার, সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ এবং হাসপাতালের সম্পদ চুরি বা অপব্যবহারের প্রশ্ন ওঠে, তখন বিষয়টি আর কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে একটি জনস্বাস্থ্য সংকট।

৯০০ শয্যার ওসমানী হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগসহ প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নেন। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জনবল কাঠামো এখনও অনেকটা ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৮৫০ জন নার্সের প্রয়োজন হলেও আছেন ৬০০ থেকে ৬৫০ জন। ওয়ার্ড সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘাটতি।

এই জনবল সংকট নিঃসন্দেহে বড় সমস্যা। কিন্তু প্রশ্ন হলো—জনবল সংকট কি হাসপাতালের প্রতিটি অনিয়মের ব্যাখ্যা হতে পারে?

রোগীর সেবার আগে শুরু হয় ভোগান্তি

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসা একজন রোগীর প্রথম প্রয়োজন চিকিৎসা। কিন্তু ওসমানীতে অনেক রোগীর অভিজ্ঞতা যেন তার আগেই শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা ও দৌড়ঝাঁপ দিয়ে।

অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হয়েছে রোগীর ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নন—এমন বয়স্ক কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের জন্য এটি অনেক সময় নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।

কেউ তথ্য পূরণ করতে পারছেন না, কেউ প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়ছেন, আবার কেউ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা না পেয়ে হাসপাতালের এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে ঘুরছেন। গুরুতর রোগী নিয়ে আসা স্বজনদের অভিযোগ, নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে গিয়ে কখনো কখনো চিকিৎসা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে।

অথচ জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে আগে চিকিৎসা শুরু করার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—নিয়ম আছে, কিন্তু সেটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে?

ট্রলি-হুইলচেয়ারেও টাকার অভিযোগ

সরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সহায়তাও হাসপাতালের সেবার অংশ।

কিন্তু ওসমানী হাসপাতালে ট্রলি কিংবা হুইলচেয়ার পেতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সত্য হলে তা শুধু অনিয়ম নয়, অসুস্থ মানুষের অসহায়ত্বকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের একটি গুরুতর চিত্র।

একজন স্বজন যখন গুরুতর অসুস্থ মানুষকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁর কাছে কয়েকশ টাকা হয়তো বড় বিষয় নয়—কিন্তু প্রতিটি ধাপে যদি অর্থের দাবি ওঠে, তখন সরকারি চিকিৎসার ‘বিনামূল্যের’ ধারণাটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি দালালের দাপট

ওসমানী হাসপাতালের আরেকটি পুরোনো সমস্যা দালালচক্র।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকেই চিকিৎসা ব্যবস্থার নিয়ম-কানুন জানেন না। এই অজ্ঞতাই দালালদের সবচেয়ে বড় পুঁজি। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের আশপাশে থাকা কিছু ব্যক্তি রোগী ও স্বজনদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ঠেলে দেন।

দিনের তুলনায় রাতের বেলায় এই তৎপরতা বেশি দেখা যায় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—দালাল যদি হাসপাতালের ভেতরের কোনো কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করে থাকে, তাহলে একজন অসহায় রোগীর পক্ষে সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসার পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও আনসারের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও দালালচক্রের অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

অ্যাম্বুলেন্স আছে, সেবা পাওয়া যায় না

হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে রোগীদের অনেক সময় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে অভিযোগ।

হাসপাতাল চত্বরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সুযোগ নিয়ে রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে উৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে।

এখানে প্রশ্নটি খুব সরল—সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যদি থাকে, তাহলে রোগীকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হবে কেন?

আর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পর্যাপ্ত না হলে তার কারণ কী—সংখ্যার ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা, নাকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা?

খাবারে পচন, ব্যবস্থাপনায় প্রশ্ন

হাসপাতালে ভর্তি একজন রোগীর জন্য খাবার কোনো বিলাসিতা নয়; চিকিৎসারই অংশ। অথচ ওসমানী হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা উদ্বেগজনক।

সরেজমিনে রোগীদের জন্য রাখা ব্রেড মেঝেতে রাখা অবস্থায় দেখা গেছে। কিছু কলা ছিল নিম্নমানের ও পচন ধরা। সিদ্ধ ডিমের মধ্যেও নষ্ট ডিম পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পেঁপে, চিচিঙ্গা ও মিষ্টিকুমড়ার কিছু অংশও ছিল নিম্নমানের।

খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নষ্ট পণ্য সরিয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রোগীর খাবারের ক্ষেত্রে ‘নষ্ট হলে সরিয়ে ফেলব’—এই ব্যবস্থাপনা কতটা গ্রহণযোগ্য?

প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীর খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে মান যাচাইয়ের একটি কঠোর ও নিয়মিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। কারণ নিম্নমানের খাবার একজন সুস্থ মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ; অসুস্থ মানুষের জন্য তার ঝুঁকি আরও বেশি।

ওয়ার্ড বয়ের কাজ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর

জনবল সংকটের আরেকটি চিত্র দেখা যাচ্ছে দায়িত্ব বণ্টনে।

ক্যাজুয়ালটি বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওয়ার্ড বয়ের কাজ করতে দেখা গেছে। আবার অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ওয়ার্ড বয় নিজেদের অনুপস্থিতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দিয়ে প্রক্সি ডিউটি করান।

যদি এমনটা ঘটে থাকে, তাহলে হাসপাতালের জনবল ব্যবস্থাপনার ওপর নজরদারি কতটা কার্যকর—সেটিই বড় প্রশ্ন।

কারণ একজন কর্মী যে দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁকে অন্য দায়িত্বে ব্যবহার করলে শুধু কাজের মান নয়, জবাবদিহির কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে।

পরিচ্ছন্নতার নামে আরেক অনিয়ম?

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সরাসরি রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। অথচ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কেউ কেউ রোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, ট্রলি বা হুইলচেয়ার সরবরাহ এবং অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে দুটি সমস্যা একসঙ্গে তৈরি হয়—একদিকে পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হয়, অন্যদিকে রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি সেবা কোথায় বিনামূল্যে এবং কোন সেবার জন্য অর্থ দিতে হয়—এ বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। অস্বচ্ছতা যত বাড়ে, অনিয়মের সুযোগ তত বাড়ে।

চুরির অভিযোগেরও তদন্ত দরকার

হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আরেকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে—সরকারি সম্পদ চুরি বা আত্মসাতের অভিযোগ।

হাসপাতাল একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাবার, যন্ত্রপাতি, আসবাব, লিনেনসহ নানা ধরনের সরকারি সম্পদ এখানে ব্যবহৃত হয়। এসব সম্পদের হিসাব, সংরক্ষণ ও ব্যবহার যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে চুরি, অপচয় কিংবা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগকে প্রমাণ ছাড়া সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বরং প্রয়োজন নিয়মিত স্টক অডিট, ক্রয়-বিতরণ হিসাবের যাচাই, হারানো বা নষ্ট হওয়া সরঞ্জামের তালিকা প্রকাশ এবং অভিযোগ উঠলে স্বাধীন তদন্ত।

একটি সরকারি হাসপাতালের সম্পদ জনগণের সম্পদ। সেই সম্পদের এক টুকরো গজ, একটি হুইলচেয়ার কিংবা একটি চিকিৎসা সরঞ্জামও যদি হিসাবের বাইরে চলে যায়, তার দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে।

এক বছর আগে দুদকের অভিযান

ওসমানী হাসপাতালের অনিয়মের অভিযোগ একেবারে নতুন নয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি দল হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছিল। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ, রোগীদের খাবার এবং ওয়াশরুম পরিদর্শন করে।

অভিযানের মাধ্যমে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় সামনে আসার কথা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু এক বছর পরও যদি একই ধরনের অভিযোগ ফিরে আসে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—আগের অভিযানের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?

কোন অভিযোগের তদন্ত হয়েছে?

কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

কী পরিবর্তন এসেছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।

সংকট শুধু জনবলের নয়

ওসমানী হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. বদরুল আলম জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করছেন। খাবারের মানও তিনি নিজে পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন। অনলাইন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জরুরি রোগীদের আগে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনার কথাও বলেছেন তিনি।

হাসপাতালের বাস্তবতা অবশ্যই কঠিন। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে সীমিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে।

কিন্তু এখানেই প্রশাসনের আসল পরীক্ষা।

জনবল কম—তাই বলে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এমন নয়।

রোগী বেশি—তাই বলে দালাল ঠেকানো যাবে না, এমন নয়।

অ্যাম্বুলেন্স কম—তাই বলে সরকারি ব্যবস্থাপনার হিসাব থাকবে না, এমন নয়।

আর জনবল সংকট—তাই বলে সরকারি সম্পদের হিসাব দুর্বল হওয়ারও কোনো যুক্তি হতে পারে না।

ওসমানীকে বাঁচাতে হলে জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে হবে

ওসমানী হাসপাতালকে শুধু আরও ভবন, আরও শয্যা কিংবা আরও যন্ত্রপাতি দিয়ে কার্যকর করা যাবে না। প্রয়োজন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি।

প্রথমত, হাসপাতালের সব সরকারি সম্পদের ডিজিটাল ইনভেন্টরি তৈরি করতে হবে। কোন বিভাগে কত সরঞ্জাম আছে, কতটি নষ্ট, কতটি ব্যবহারযোগ্য এবং কতটি হারিয়েছে—তার নিয়মিত হিসাব থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রোগীর খাবারের মান যাচাইয়ে স্বাধীন ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, দালালচক্র নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, হাসপাতালের ভেতর থেকে তাদের সহযোগিতা করার অভিযোগও তদন্ত করতে হবে।

চতুর্থত, ট্রলি, হুইলচেয়ার, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য সেবার জন্য কোনো অর্থ নেওয়া বৈধ কি না—তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান স্থানে জানাতে হবে।

পঞ্চমত, অনলাইন নিবন্ধন এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে প্রযুক্তিগত জটিলতা কোনো রোগীর চিকিৎসার পথে বাধা না হয়।

সবশেষে সবচেয়ে জরুরি হলো—অভিযোগ উঠলে তদন্ত এবং তদন্তের পর দৃশ্যমান ব্যবস্থা।

কারণ একটি সরকারি হাসপাতালের দেয়ালে শুধু ইট-সিমেন্ট থাকে না; সেখানে মানুষের বিশ্বাসও জমা থাকে।

ওসমানী হাসপাতালে প্রতিদিন যে হাজার হাজার মানুষ আসেন, তাঁরা শুধু চিকিৎসা চান না—তাঁরা রাষ্ট্রের ওপর আস্থা নিয়ে আসেন। সেই আস্থার বিনিময়ে যদি তাঁকে দালালের মুখোমুখি হতে হয়, নিম্নমানের খাবার খেতে হয়, সেবা পেতে টাকা দিতে হয় কিংবা সরকারি সম্পদ চুরির অভিযোগ শুনতে হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু একজন রোগী নন—ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।

ওসমানী তাই শুধু একটি হাসপাতালের নাম নয়। এটি সিলেটের মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অনিয়মের জাল ছিন্ন করার পাশাপাশি কে দায়ী, কোথায় ব্যর্থতা এবং কীভাবে তা বন্ধ করা হবে—এই তিন প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে দিতে হবে।