তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রেক্সিটের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পাউন্ড, লাভবান হতে পারেন বাংলাদেশি প্রবাসীরাও

ব্রেক্সিটের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পাউন্ড, লাভবান হতে পারেন বাংলাদেশি প্রবাসীরাও

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৫ নভেম্বর: 

ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্য ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরো ও মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের শক্তিশালী অবস্থান যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনীতিতেও।

বিশ্বের ১৮টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য নির্ধারণকারী ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সূচক চলতি সপ্তাহে ৮৬ দশমিক ৪-এ পৌঁছেছে। ২০০৫ সালের মুদ্রামানকে ১০০ ধরে হিসাব করা এই সূচক ২০১৬ সালের জুনে ব্রেক্সিট গণভোটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী অনিশ্চয়তা, করোনা মহামারি এবং ২০২২ সালের মিনি-বাজেটের সময় পাউন্ডের বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ পাউন্ডের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী জিম ও'নিলের মতে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে উন্নতির যে গতি তৈরি হয়েছে, তা অনেকেই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেননি।

পাউন্ডের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা বিশেষভাবে লাভবান হতে পারেন বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে। পাউন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য কমলে একই পরিমাণ পাউন্ড পাঠিয়ে দেশে বেশি টাকা পাওয়া যাবে। এতে দেশে থাকা পরিবারের ভরণপোষণ, চিকিৎসা, পড়াশোনা ও বাড়ি নির্মাণের খরচ মেটানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশে বেড়াতে যাওয়া, জমি কেনা কিংবা সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে পাউন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়হারের ওপর।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতিতেও যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৩১৬ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১০.৪৪ শতাংশ।

অন্যদিকে পাউন্ডের মূল্যবৃদ্ধি মানেই যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমে যাওয়া নয়। তবে আমদানি ব্যয় কমলে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়ালে মর্টগেজ ও ঋণের কিস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১১টা ১ মিনিটে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম ০.২৮ শতাংশ বেড়ে ১.৩৪৩৪ ডলারে দাঁড়ায়। ইউরোর বিপরীতে এর মূল্য ছিল ১.১৯৯৬ ইউরো।

সব মিলিয়ে পাউন্ডের এই উত্থান যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নিয়মিত অর্থ পাঠানো ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্যও এটি সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধার খবর।