ব্রিটেন সংবাদ
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বার্নহ্যামকে তোপ, ‘ব্রিটেনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে’
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ সেপ্টেম্বর:
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম টুগেনহাট।
তার দাবি, ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রিটেনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়লে যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এরই মধ্যে জানিয়েছেন, পশ্চিম তীরের বসতি ইস্যুতে ব্রিটেন তার নীতিতে একটি ‘ব্যাপক পুনর্বিন্যাস’ করতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
এই অবস্থান নিয়েই সরাসরি আপত্তি তুলেছেন টুগেনহাট। তাঁর যুক্তি, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি শুধু কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এর প্রভাব ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।
তবে সরকারের অবস্থান হলো, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা ভবিষ্যৎ দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বার্নহ্যাম সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বসতি ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি—উভয় পক্ষের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।
বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ব্রিটেনে ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ ইতোমধ্যে বেড়েছে। ব্রিটিশ সরকার জুলাইয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং জানায়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে ইহুদি সম্প্রদায়, সাংবাদিক ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক হামলা ও হামলার চেষ্টা হয়েছিল।
এপ্রিল মাসে গোল্ডার্স গ্রিনে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাজ্যের জাতীয় সন্ত্রাসবাদী হুমকির মাত্রাও ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ থেকে ‘সিভিয়ার’ করা হয়েছিল। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর অর্থ হলো আগামী ছয় মাসে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি।
ফলে ইসরায়েলকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিতর্ক এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যনীতি বা ফিলিস্তিন প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ঠেকাতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে—এতে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
টুগেনহাটের বক্তব্য সেই রাজনৈতিক বিরোধকেই আরও তীব্র করেছে। তবে সরকার এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা ছিন্ন করার কোনো ঘোষণা দেয়নি; আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম তীরের বসতি ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা।
মূল বিষয়: ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্কটি এখন মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন প্রশ্নের পাশাপাশি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।