বাংলাদেশ সংবাদ
বিড়ালের প্রতি অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৬ সেপ্টেম্বর:
‘প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা—মানি না, মানবো না’ স্লোগানে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পশুপ্রেমীরা। পথবিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধে নারীসহ চার বাসিন্দা আহত হওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গত ২৭ আগস্ট রাতে বারিধারা ডিওএইচএসের একটি পার্কের পাশে পথবিড়ালকে খাবার দিতে গেলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কয়েকজন বাসিন্দার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনায় আহত নারী বাসিন্দা অথৈ নীলিমা মানববন্ধনে বলেন, হামলার পর থেকে নিজের বাসা থেকে বের হতেও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া, চুল ধরে টানাটানি ও মারধর করা হয়।
অথৈ নীলিমার ভাষ্য, ২০২১ সালে বারিধারা ডিওএইচএসে বসবাস শুরু করার পর প্রথম দিকে নিজেকে নিরাপদ মনে হলেও পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সাত দিন পার হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী আকিবুর রহমান খান বলেন, তাঁরা অনুমতি নিয়েই পার্কের পাশে থাকা পথবিড়ালকে খাবার দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং ছোট ভাই রাফিদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আকিবুর রহমানের দাবি, রাফিদকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রীকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকেও মারধর করা হয়। এতে তাঁর পায়ের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় প্রায় ২০ জন নিরাপত্তাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালান। কয়েকজনের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিষদের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া, হামলায় জড়িত নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রাণীদের খাবার দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের দাবি, মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও অন্য দুটি বিষয়ে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে হামলায় জড়িত নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বিড়াল-কুকুরকে খাবার দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফিডিং স্টেশন স্থাপন, আগে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া ১০ থেকে ১২টি টিকাপ্রাপ্ত কুকুরের বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ এবং বর্তমান পরিষদের সভাপতির পদত্যাগ।
বক্তারা বলেন, আবাসিক এলাকায় প্রাণীদের খাবার দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। নির্দিষ্ট জায়গায় খাবার দেওয়া, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং খাবার দেওয়ার পর স্থান পরিষ্কার রাখার বিষয়ে তাঁরা সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত। তবে এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো বাসিন্দার ওপর শারীরিক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধনে এর আগে ডিওএইচএস এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি কুকুর সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। পশুপ্রেমীদের দাবি, প্রায় ১২টি কুকুর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সিটি করপোরেশন কুকুরগুলো সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এমন কোনো কুকুর সরিয়ে নেওয়ার তথ্য জানানো হয়নি বলে দাবি করেন পশুপ্রেমীরা।
বক্তারা বলেন, একটি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছ থেকে বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন। প্রাণীকে কেউ পছন্দ না করলেও তার প্রতি নিষ্ঠুরতা কিংবা প্রাণীকে খাবার দেওয়া ব্যক্তিকে হেনস্তা করার সুযোগ নেই। ২৭ আগস্টের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।