স্বাস্থ্য পাতা

বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ যাচ্ছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের

বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ যাচ্ছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ৯সেপ্টেম্বর:

বিশ্বজুড়ে ধূমপান শুধু ধূমপায়ীদেরই নয়, আশপাশের কোটি কোটি মানুষের জন্যও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণা বলছে, ২০২৩ সালে প্রায় ২৭১ কোটি অধূমপায়ী পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন এবং এর সঙ্গে প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার অকালমৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭৬ কোটি ৭০ লাখই ছিল ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু।

দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ, বিভিন্ন গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের PubMed ডাটাবেসের তথ্য পর্যালোচনা করেন।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু

গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ২০২৩ সালে শিশুদের মধ্যে আনুমানিক ৫২ লাখ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলোর একটি ছিল ইস্কেমিক হৃদ্‌রোগ।

পরোক্ষ ধূমপানের অর্থ শুধু ধূমপায়ীর নিঃশ্বাসের ধোঁয়া নয়। জ্বলন্ত সিগারেট বা অন্য তামাকজাত পণ্য থেকে সরাসরি বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়াও এর বড় উৎস। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ধোঁয়া কোনো ফিল্টারের মধ্য দিয়ে যায় না এবং এতে বিষাক্ত ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের ঘনত্ব বেশি হতে পারে।

ধূমপান কমলেও ঝুঁকি কমেনি

বিশ্বে ১৯৯০ সালের তুলনায় পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসার অনুপাত প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় একই রয়ে গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকা এবং উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চলে এই ঝুঁকি বেড়েছে।

নারীরাও অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব সমাজে নারীদের মধ্যে ধূমপানের হার কম, সেখানেও পুরুষের ধূমপানের কারণে নারীরা নিয়মিত পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়ায় নারীদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষকদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। তাই শুধু রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ বা কর্মস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ নয়—বাড়ির ভেতরেও শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। বিশ্বজুড়ে ধূমপানের হার কমলেও অন্যের ধোঁয়ার কারণে এত বিপুল মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি অব্যাহত থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কবার্তা।