ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ধনীদের সম্পদে কর বসাবে ব্রিটেন? বাড়ছে বিতর্ক

ধনীদের সম্পদে কর বসাবে ব্রিটেন? বাড়ছে বিতর্ক

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১২ সেপ্টেম্বর:

ব্রিটেনে করের বোঝা ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে, অথচ NHS, সামাজিক যত্ন ও স্থানীয় সরকারি সেবায় অর্থের সংকট বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অতি-ধনীদের সম্পদের ওপর আলাদা সম্পদ কর বসানোর দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।

সমর্থকদের যুক্তি, ধনীদের বিপুল সম্পদের ওপর সামান্য কর বসিয়েই সরকার বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। আলোচিত একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, £১০ মিলিয়নের বেশি সম্পদের ওপর ২ শতাংশ কর বসালে বছরে প্রায় £২৪ বিলিয়ন রাজস্ব আসতে পারে। এককালীন সম্পদ করের আরও বড় একটি মডেলে প্রায় £২৬০ বিলিয়ন সংগ্রহের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।

এই অর্থ NHS, সামাজিক যত্ন ও অন্যান্য জনসেবায় ব্যয় করা যেতে পারে বলে সমর্থকদের দাবি।

কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন—কর বাড়ালে ধনীরা যদি ব্রিটেনই ছেড়ে যান?

এই আশঙ্কার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে বিলিয়নিয়ার ক্রিস রোকোসের নাম। Rokos Capital Management-এর প্রতিষ্ঠাতা রোকোস যুক্তরাজ্য ছেড়ে গ্রিসে তাঁর কর-আবাস সরিয়ে নিচ্ছেন। গত বছর তিনি ব্রিটেনে প্রায় £৩৩০ মিলিয়ন কর দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে এসেছে। গ্রিসে অতি-ধনীদের জন্য বিশেষ কর সুবিধাও রয়েছে। 

সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন সম্পদ কর চালু হলে শুধু ধনীদের দেশত্যাগ নয়, বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং কর আদায়ের প্রশাসনিক ব্যয়ও বাড়তে পারে। কারণ শেয়ার, ব্যবসা, জমি-বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করাও সহজ নয়।

তবে সম্পদ করের সমর্থকেরা পাল্টা বলছেন, সাধারণ কর্মজীবীরা তাঁদের আয়ের ওপর নিয়মিত কর দেন; অথচ বিপুল সম্পদের মূল্য বাড়লেও তার ওপর সবসময় একইভাবে কর দিতে হয় না। তাই সম্পদের ওপরও ন্যায্য কর থাকা উচিত।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছে, নতুন সম্পদ করের আগে মূলধনী লাভ, সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার করের বিদ্যমান কাঠামো আরও কার্যকর করা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বিতর্কটি একটি প্রশ্নেই এসে ঠেকছে—

ব্রিটেন কি অতি-ধনীদের সম্পদের ওপর নতুন কর বসিয়ে জনসেবার অর্থ জোগাড় করবে, নাকি বিদ্যমান করব্যবস্থার ফাঁক বন্ধ করেই রাজস্ব বাড়াবে?

অক্টোবরের বাজেটের আগে এই প্রশ্নই ব্রিটিশ রাজনীতিতে আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।