ব্রিটেন সংবাদ
ব্রিটিশ নাগরিকত্বের ফি ১,৭০৯ পাউন্ড, প্রশাসনিক খরচ মাত্র ৩২৪
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ সেপ্টেম্বর :
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে একজন আবেদনকারীকে দিতে হচ্ছে ১,৭০৯ পাউন্ড। অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সেই আবেদন প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়া করতে আনুমানিক ব্যয় মাত্র ৩২৪ পাউন্ড। অর্থাৎ প্রশাসনিক খরচের তুলনায় নাগরিকত্বের আবেদন ফি পাঁচ গুণেরও বেশি।
এই হিসাব সামনে আসার পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের ফি কতটা ন্যায্য—তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন করে জোরালো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বহু বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন এমন অভিবাসীদের কাছে এটি শুধু একটি সরকারি আবেদন নয়। অনেকের কাছে এটি দীর্ঘদিনের জীবনযাপন, কাজ, কর প্রদান এবং ব্রিটিশ সমাজে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরবর্তী আইনি ধাপ। কিন্তু সেই ধাপে পৌঁছাতেই একজন আবেদনকারীকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
একটি পরিবারের একাধিক সদস্য নাগরিকত্বের আবেদন করলে ব্যয়ের পরিমাণ আরও দ্রুত বেড়ে যায়। স্বামী-স্ত্রী দুজন আবেদন করলে শুধু আবেদন ফিই দাঁড়ায় ৩,৪১৮ পাউন্ড। পরিবারের সন্তানরাও আবেদন করলে মোট খরচ আরও বাড়তে পারে। এর বাইরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় রয়েছে।
ফলে নাগরিকত্বের পথটি কেবল আইনি যোগ্যতার বিষয় নয়, অনেক পরিবারের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্তও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহের কারণ আরও বেশি। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে থাকার পর অনেকে নাগরিকত্ব নিতে চান, কিন্তু আবেদন ফি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের কারণে কেউ কেউ আবেদন পিছিয়ে দেন।
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—একটি নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় যদি প্রশাসনিক ব্যয় আনুমানিক ৩২৪ পাউন্ড হয়, তাহলে আবেদনকারীর কাছ থেকে ১,৭০৯ পাউন্ড নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী?
সরকারের ফি কাঠামোতে শুধু সরাসরি প্রশাসনিক ব্যয়ই বিবেচিত হয় না। তবে খরচ ও ফি-এর এই বড় ব্যবধান নাগরিকত্বের আবেদনকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতার বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে।
আরেকটি বাস্তব সমস্যা হলো—আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারীকে যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, সেটিও তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব একজন অভিবাসীর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাই এর ফি নির্ধারণে প্রশাসনিক ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সামর্থ্য ও ন্যায্যতার বিষয়টিও কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
নাগরিকত্বের দরজা সবার জন্য খোলা—কিন্তু সেই দরজায় পৌঁছানোর মূল্য কতটা হওয়া উচিত, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।