ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ইউরোপ বা বাংলাদেশে সম্পদ গোপন করে বেনিফিট ভোগীরা DWP-এর নজরদারিতে
ইউরোপ প্রতিনিধি, ১২ সেপ্টেম্বর:
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা, বাড়ি-জমি কিংবা ব্যাংক সঞ্চয় রেখে যুক্তরাজ্যে এসে বেনিফিট নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে ইতালিতে বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু বাংলাদেশি পরিবার লন্ডনে বসবাস শুরু করার পর Universal Creditসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা দাবি করছেন—এমন অভিযোগ প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
ব্রিটেনে এ বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নও রয়েছে। কারও ইতালিতে ব্যবসা চলছে, পরিবারের সদস্যরা সেখানে যাতায়াত করছেন, কেউ আবার নিয়মিত ইতালি-যুক্তরাজ্য যাতায়াত করছেন—তারপরও যুক্তরাজ্যে income-related benefit-এর দাবি করা হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—ইতালিতে বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ব্যবসা থাকা বা বারবার ঐসব দেশে যাতায়াত করা নিজে benefit fraud-এর প্রমাণ নয়। একইভাবে বিদেশে সম্পদ থাকা ব্যক্তিও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে benefit পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আসল প্রশ্ন হলো, benefit-এর আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার প্রকৃত আয়, সম্পদ, savings ও household circumstances DWP-কে সঠিকভাবে জানিয়েছেন কি না।
বিদেশের সম্পদও হিসাবের বাইরে নয়
Universal Credit-এর ক্ষেত্রে claimant-এর capital বা সম্পদের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের বাইরে থাকা money, savings ও investments-ও entitlement নির্ধারণে বিবেচিত হতে পারে।
ফলে ইতালিতে, ফ্রান্সে বা অন্যান্য দেশে কোনো ব্যক্তির বাড়ি, জমি, সঞ্চয় বা ব্যবসা থাকলে সেটি সম্পূর্ণ গোপন রেখে ব্রিটেনে Universal Credit দাবি করা যাবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
একইভাবে বাংলাদেশে থাকা বাড়ি, জমি, ব্যাংক সঞ্চয় বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে
ইউরোপে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা কোনো বাংলাদেশি লন্ডনে বসবাস শুরু করলেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ benefit পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। ব্যবসার মালিকানা, ব্যবসা থেকে প্রকৃত আয়, সম্পত্তির ব্যবহার এবং ব্যক্তির মোট financial circumstances—সবকিছু বিবেচনা করতে হয়।
কিন্তু যদি কেউ ব্যবসা থেকে পাওয়া আয় গোপন করেন, নিজের প্রকৃত financial position সম্পর্কে ভুল তথ্য দেন অথবা benefit পাওয়ার যোগ্যতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ লুকিয়ে রাখেন, তখন বিষয়টি আলাদা।
এ ধরনের তথ্য DWP-এর কাছে ধরা পড়লে অতিরিক্ত benefit ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি fraud investigation হতে পারে।
বারবার বিদেশ যাতায়াতও কি DWP-এর নজরে আসতে পারে?
বিদেশে যাতায়াত করাও নিজে fraud-এর প্রমাণ নয়। কাজের কারণে, পরিবারের কারণে কিংবা ব্যবসার প্রয়োজনে কেউ ইউরোপ, আমেরিকা বা বাংলাদেশে যেতে পারেন।
কিন্তু একজন claimant কোথায় থাকেন, তার প্রকৃত circumstances কী এবং তিনি benefit পাওয়ার শর্ত পূরণ করছেন কি না—এসব প্রশ্নে বিদেশে অবস্থানের তথ্য প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে একজন ব্যক্তি যদি বাস্তবে দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকেন, অথচ যুক্তরাজ্যে বসবাস ও benefit entitlement সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দেন, তাহলে তার circumstances যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই শুধু “অনেকবার বিদেশে গেছেন”—এমন তথ্য দিয়ে কাউকে fraudster বলা যায় না। কিন্তু বিদেশে থাকা, ব্যবসা ও আয় সম্পর্কে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি থাকলে সেটি তদন্তের কারণ হতে পারে।
DWP-এর নজরদারি কেন বাড়ছে?
সরকার এখন benefit system-এর fraud, error এবং overpayment কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। DWP বিভিন্ন সরকারি তথ্যের সঙ্গে claimant-এর দেওয়া তথ্য মিলিয়ে entitlement যাচাই করছে।
বিশেষ করে earnings, employment, savings, capital এবং household circumstances—এসব তথ্যের অসঙ্গতি শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এর অর্থ হলো, আগের মতো শুধু আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন সরকারি তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রবাসী সমাজে স্বচ্ছতার প্রশ্ন
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি সমাজে এ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—যারা সত্যিই আর্থিক সংকটে আছেন, তাদের জন্য নির্ধারিত বেনিফিট ব্যবস্থা যেন প্রকৃত প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছেই পৌঁছায়।
কেউ ইতালিতে ব্যবসা করেন, বাংলাদেশে সম্পদ রাখেন কিংবা ইউরোপের অন্য দেশে আর্থিক স্বার্থ রাখেন—এসব কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু সেই সম্পদ বা আয় যদি benefit entitlement নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক হয় এবং তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়, তাহলে বিষয়টি আর সাধারণ benefit claim-এর মধ্যে থাকে না।
অন্যদিকে প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে benefit fraud-এর অভিযোগ তোলাও সমানভাবে অনুচিত।
সামনে আরও কঠোর যাচাই
২০২৬ সালে ব্রিটিশ সরকার benefit fraud ও error কমাতে তথ্য যাচাই এবং recovery ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু fraud শনাক্ত করা নয়, ভুলভাবে দেওয়া অর্থও দ্রুত শনাক্ত করে ফেরত নেওয়া।
ফলে বিদেশে ব্যবসা, সম্পত্তি কিংবা আর্থিক স্বার্থ রয়েছে—এমন benefit claimant-দের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো নিজের প্রকৃত financial circumstances সম্পর্কে DWP-কে সঠিক তথ্য দেওয়া।
কারও ইতালিতে, বা ইউরোপে রেস্টুরেন্ট আছে কি না, বাংলাদেশে বাড়ি আছে কি না, বছরে কতবার বিদেশে যান—এসব তথ্য একা কোনো fraud প্রমাণ করে না। কিন্তু এসব তথ্যের সঙ্গে যদি benefit application-এ দেওয়া আয় ও সম্পদের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকে, তখন DWP-এর প্রশ্নের মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সুতরাং বিষয়টি কোনো জাতীয়তা বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়। প্রশ্নটি একেবারেই স্বচ্ছতার—যে ব্যক্তি ব্রিটিশ জনগণের করের অর্থ থেকে benefit নিচ্ছেন, তিনি তার প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে দিয়েছেন কি না।