ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

৯/১১-এর ২৫ বছর: আমেরিকার আকাশে আজও সেই দিনের স্মৃতি

৯/১১-এর ২৫ বছর: আমেরিকার আকাশে আজও সেই দিনের স্মৃতি

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১১ সেপ্টেম্বর :

একটি সকাল বদলে দিয়েছিল আমেরিকাকে, বদলে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে চালানো সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। এক শতাব্দীর চার ভাগের এক ভাগ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের মৃত্যু, ধ্বংস ও আতঙ্কের স্মৃতি এখনো মার্কিন সমাজে গভীরভাবে জীবন্ত।

২৫ বছর পূর্তিতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিহতদের স্মরণে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকায় ৯/১১ মেমোরিয়ালে নিহতদের স্বজনেরা সমবেত হয়েছেন। সেখানে হামলায় নিহতদের নাম পাঠের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে তাদের।

২০০১ সালের হামলায় নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়। একই সময়ে একটি বিমান আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে বিধ্বস্ত হয়। সব মিলিয়ে সেদিন প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন। পরবর্তী বছরগুলোতে ৯/১১-সংক্রান্ত অসুস্থতা ও আঘাতের কারণেও বহু মানুষ মারা গেছেন।

নিউইয়র্কের মূল স্মরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে নিহতদের নাম পাঠ করা হচ্ছে। হামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত স্মরণ করে সাতবার নীরবতা পালন করা হবে। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানিসহ সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এবারের স্মরণ অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৯/১১-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি। নিউইয়র্ক নগর প্রশাসন সম্প্রতি হামলার পর বায়ুর মান, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথি প্রকাশের পর হামলার পরপরই বায়ু কতটা নিরাপদ ছিল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু নিউইয়র্ক নয়, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়াতেও আজ বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান হচ্ছে। পেন্টাগন মেমোরিয়ালে নিহতদের স্মরণে আয়োজন করা হয়েছে পৃথক কর্মসূচি। আর ফ্লাইট ৯৩ বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান পেনসিলভানিয়ার ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে নিহত যাত্রী ও ক্রুদের নাম পাঠ, স্মরণ ঘণ্টা বাজানো এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।

২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের আকাশও হয়ে উঠেছিল স্মৃতির প্রতীক। বুধবার রাতে নিউইয়র্ক হারবারের ওপর প্রায় ৩ হাজার আলোকবিন্দু নিয়ে বিশেষ ড্রোন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির স্মরণে একটি করে আলো ব্যবহার করে আকাশে টুইন টাওয়ারের অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়।

৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার নাম নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমান চলাচল এবং বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু হয়, যার প্রভাব পরবর্তী দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও ব্যাপকভাবে পড়েছে।

আজকের স্মরণ অনুষ্ঠান তাই শুধু নিহতদের জন্য শোক প্রকাশের আয়োজন নয়। ২৫ বছর পর দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে ফিরে দেখছে সেই ভয়াবহ সকাল, তার পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো এবং সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।

সময়ের সঙ্গে ৯/১১-এর প্রত্যক্ষদর্শীর সংখ্যা কমছে, নতুন প্রজন্মের কাছে ঘটনাটি ইতিহাসে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু নিউইয়র্কের স্মৃতিফলকে খোদাই করা হাজারো নাম এবং সেদিন হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্বজনদের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে—কিছু ঘটনা ক্যালেন্ডার থেকে মুছে গেলেও মানুষের ইতিহাস থেকে মুছে যায় না।