ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রিটেনের পাঁচ পানি কোম্পানির বিল বাড়ানোর অনুমোদন, বছরে সর্বোচ্চ £৪৩ বেশি দেবেন গ্রাহকরা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৪ আগস্ট:
ব্রিটেনে আবারও বাড়তে যাচ্ছে পানির বিল। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পাঁচটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী কয়েক বছরে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা Ofwat। এর মধ্যে কোনো কোনো পরিবারের বার্ষিক বিলে বাড়তি £৪৩ পর্যন্ত যোগ হতে পারে।
নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হবে ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। Ofwat-এর অনুমোদিত অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় £৩.৪ বিলিয়ন। পানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, পানির মান বাড়ানো, ক্ষতিকর ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ অপসারণ এবং ভবিষ্যতের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন আবাসন ও ডেটা সেন্টারের কারণে বাড়তে থাকা পানির চাহিদা মোকাবিলাতেও অর্থ ব্যয় হবে।
এই অনুমোদনের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে Southern Water, Thames Water, Severn Trent Water, Wessex Water এবং United Utilities।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে Southern Water-এর গ্রাহকদের ওপর। ২০২৭–২৮ অর্থবছরে তাদের বিল গড়ে আরও £৪৩ বাড়তে পারে। ২০২৯–৩০ সালে এর সঙ্গে আরও £৩৭ যোগ হওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আওতায় ৪০ লাখের বেশি গ্রাহক রয়েছে।
অন্যদিকে আর্থিক সংকটে থাকা Thames Water-এর গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২০২৭–২৮ সালে প্রায় £৩ এবং ২০২৯–৩০ সালে আরও £৫ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
United Utilities সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে—প্রায় £৯৯৫ মিলিয়ন। এর একটি অংশ পূর্ব ম্যানচেস্টারে ডেটা সেন্টারসহ নতুন অবকাঠামোর পানির চাহিদা পূরণে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই বাড়তি অর্থ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা খরচের বিনিময়ে নির্দিষ্ট উন্নতি দেখাতে হবে। Ofwat জানিয়েছে, নির্ধারিত মান অর্জিত না হলে অনুমোদিত অর্থের কিছু অংশ ফিরিয়ে নেওয়া বা claw back করা হতে পারে।
পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ব্রিটেনের পানি খাত ইতোমধ্যেই পরিবেশগত লঙ্ঘন, বড় অঙ্কের ঋণ, লভ্যাংশ প্রদান এবং ক্রমবর্ধমান গ্রাহক বিল নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগ ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণের চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর পড়ছে।
Ofwat জানিয়েছে, এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। অতিরিক্ত ব্যয় ও বিল বৃদ্ধির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডিসেম্বর মাসে নেওয়া হবে।