যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির বড় সংকট প্রবৃদ্ধি: বার্নহ্যামকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির বড় সংকট প্রবৃদ্ধি: বার্নহ্যামকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সতর্কবার্তা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৬ জুলাই: যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংকট এখন প্রবৃদ্ধির ঘাটতি—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে তিনি বলেছেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে ধীর প্রবৃদ্ধির ফাঁদে থাকা ব্রিটেনের সামনে অর্থনীতির গতি বাড়ানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বেইলি বলেন, যুক্তরাজ্য গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কম প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতির গতি বাড়ানো ছাড়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা কঠিন।

তিনি বলেন, “অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রবৃদ্ধি।” নতুন সরকারের জন্য এটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

ধীর অর্থনীতির চাপ

ব্রিটিশ অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মুখোমুখি। উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, বিনিয়োগের ঘাটতি, শ্রমবাজারের চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হার কমানো বা কর পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।

নিয়ন্ত্রণ শিথিলের পক্ষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড

বেইলি একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

তার ভাষায়, “আর্থিক স্থিতিশীলতা ছাড়া আমরা প্রবৃদ্ধি পাব না।” অতীতের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চলতি বছর ব্যাংকের মূলধন সংক্রান্ত কিছু নিয়ম সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ফাইন্যান্সিয়াল পলিসি কমিটি।

ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে বিতর্ক

উচ্চ সুদের হারের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ ব্যাংকগুলোর আয় বেড়েছে। Lloyds Banking Group এবং NatWest Groupসহ বড় ব্যাংকগুলো তাদের আয় লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত কর বা ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপের দাবি উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যখন জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে ভুগছে, তখন ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

তবে বেইলি বলেন, ব্যাংকগুলো তাদের অতিরিক্ত আয় কীভাবে ব্যবহার করবে—তা তাদের সিদ্ধান্ত। তারা চাইলে ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগ করতে পারে অথবা শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দিতে পারে।

নতুন সরকারের সামনে কঠিন পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। ব্রিটেনের জনগণের প্রত্যাশা—শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান, বাড়তি বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বার্তা স্পষ্ট—রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা।

দীর্ঘদিনের ধীর প্রবৃদ্ধির চক্র ভাঙতে না পারলে নতুন সরকারও একই সমস্যার মুখোমুখি হবে। আর প্রবৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে পারলে সেটিই হতে পারে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রথম ধাপ।