ফুটবলের চেয়ে ‘ডার্ক আর্টস’-এর লড়াই, ধৈর্যের পরীক্ষায় ইংল্যান্ড

ফুটবলের চেয়ে ‘ডার্ক আর্টস’-এর লড়াই, ধৈর্যের পরীক্ষায় ইংল্যান্ড

খেলাধূলা ডেস্ক, ১৫ জুলাই:

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা নতুন কিছু করেনি। তারা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করাও তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। আটলান্টায় প্রথমার্ধে সেটাই দেখা গেল। ঘন ঘন ফাউল, খেলা থামিয়ে দেওয়া, রেফারির সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা যেন ফুটবলের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও খেলছে।

প্রথম ৪৫ মিনিটে মোট ১৯টি ফাউল হয়েছে। এর মধ্যে ১২টিই করেছে আর্জেন্টিনা। সংখ্যাটা কেবল পরিসংখ্যান নয়, ম্যাচের চরিত্রও তুলে ধরে। বলের গতি কমিয়ে দেওয়া, ইংল্যান্ডের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করে ভুল করানোর চেষ্টা—এসবই ছিল তাদের কৌশলের অংশ।

তবে ইংল্যান্ডের জন্য ইতিবাচক দিক হলো, তারা সেই ফাঁদে পুরোপুরি পা দেয়নি। থমাস টুখেলের দল উত্তেজনার বদলে ধৈর্য ধরে খেলেছে। মাঝে মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখালেও তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটাই বড় অর্জন।

অবশ্য ইংল্যান্ডেরও সীমাবদ্ধতা ছিল। একের পর এক ফ্রি-কিক পেলেও সেগুলো থেকে কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। আক্রমণে গতি ছিল না, শেষ পাসেও ছিল ঘাটতি। হ্যারি কেইন অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন, আর জুড বেলিংহ্যামকে বারবার কঠিন ট্যাকলের মুখে পড়তে হয়েছে।

অন্যদিকে লিওনেল মেসি প্রথমার্ধের বড় অংশ নীরব থাকলেও শেষদিকে কয়েকটি মুহূর্তেই তাঁর শ্রেণি ফুটে ওঠে। একবার মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কেইন, স্পেন্স ও রাইসকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য মনে করিয়ে দিয়েছে—এক মুহূর্তের জাদুই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। সেই আক্রমণ থেকেই এনজো ফার্নান্দেজের শট ক্রসবারের গা ঘেঁষে বেরিয়ে না গেলে ইংল্যান্ড হয়তো বিরতিতে পিছিয়েই যেত।

রেফারিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময় আর্জেন্টিনার ধারাবাহিক ফাউল উপেক্ষিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন। অনেকের মতে, কঠোর সিদ্ধান্ত আরও আগে এলে ম্যাচের গতি ভিন্ন হতে পারত।

প্রথমার্ধে গোল হয়নি, লক্ষ্যভেদী শটও দেখা যায়নি। কিন্তু এটাকে নিস্তেজ ম্যাচ বলা যাবে না। বরং এটি ছিল দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। একদিকে টুখেলের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত ইংল্যান্ড, অন্যদিকে সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলার কৌশলী আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে তাই শুধু ফুটবল নয়, স্নায়ুর লড়াইটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে। যে দল মাথা ঠান্ডা রাখতে পারবে, তারাই হয়তো বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে।