ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
কুষ্টিয়ায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ, আহত ১৫
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১৫ আগস্ট :
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মো. আমির হামজার একটি বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হওয়ার পর এবার তাঁকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া শহরে জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত আমির হামজার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী পাঁচ বছরে কুষ্টিয়া সদর আসনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের দেওয়া বাজেট তাঁর হাত দিয়েই আসবে।
এই বক্তব্যের প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক আমির হামজার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন। বিকেল ৫টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমির হামজার গাড়ি সেখানে পৌঁছালে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আমির হামজার অভিযোগ, গণঅধিকারের খালেক ও তৌকিরের লোকজন হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালান। এতে তাঁর চাচার পা কেটে যায় এবং তিনি নিজেও কপালে আঘাত পেয়েছেন। তাঁর দলের সাতজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আমির হামজা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি হত্যাচেষ্টার মামলা করবেন এবং খালেক ও তৌকিরকে মামলায় যথাক্রমে এক ও দুই নম্বর আসামি করবেন।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকিরের দাবি, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আমির হামজার লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তাঁদের সাধারণ সম্পাদকের অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং দলের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে পুরো ঘটনাটি যেন কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি করেছে—একদিকে এমপি নিজ আসনের জন্য নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বলছেন, অন্যদিকে সেই ‘প্রধানমন্ত্রী’র গাড়িই আবার ছয় রাস্তার মোড়ে ইটপাটকেলের মুখে পড়ছে।
অবশ্য সংসদীয় ব্যবস্থায় এমপি আর প্রধানমন্ত্রী যে একই পদ নয়, সেটি বোঝাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বই খুলতে হবে কি না—এখন কুষ্টিয়ার রাজনীতি সেটিও যেন নতুন করে ভাবাচ্ছে। আর বাজেট যদি সত্যিই ‘এমপির হাতেই’ আসে, তাহলে অন্তত কুষ্টিয়া-৩ আসনের মানুষ আগামী পাঁচ বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চেয়ে নিজেদের এমপির দিকেই তাকিয়ে থাকতে পারেন!