১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও রুপাসহ
সিলেটের হযরত শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে এবার মিললো ৭০ লাখের বেশি টাকা
সিলেট প্রতিনিধি, ১৫ আগস্ট:
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগ খুলে এবার পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এর সঙ্গে মিলেছে ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের সিলগালা খোলা হয়। এরপর প্রশাসনের কর্মকর্তা, মাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে শুরু হয় টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনা। দীর্ঘ গণনা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সাংবাদিকদের সামনে হিসাব তুলে ধরেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে বাংলাদেশি মুদ্রার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ৩১ পাউন্ড ১১ পেনি, ভারতের ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার এবং নেপালের ১০০ রুপিসহ মোট ১৯ দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা। নজরানা হিসেবে ছিল গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিও।
এর আগে গত ২২ জুন ও ১১ জুলাই দুই দফায় মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে অর্থ গণনা করা হয়। প্রথম দফায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা এবং পরের দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এসব অর্থ নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে।
মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন আগের দানবাক্সগুলো সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। একই সঙ্গে মানুষের দানের অর্থ জমা রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়েছিল।
এই উদ্যোগ নিয়ে তখন স্থানীয়ভাবে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির উদ্যোগেই ধারাবাহিকভাবে দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও দানবাক্স খুললেই যে বিপুল অর্থের হিসাব সামনে আসছে, তাতে মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।