ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
প্রবাসী আয়ের ৮৬ শতাংশই ১০ দেশ থেকে, দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস যুক্তরাজ্য
ভয়েস অব পিপল প্রতিবেদন, ১৬ আগস্ট:
বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের বড় অংশই আসছে সীমিত কয়েকটি দেশ থেকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের ৮৬ দশমিক ২৮ শতাংশ এসেছে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। এর মধ্যে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে মোট ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
তবে মোট আয়ের বড় অংশ এসেছে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। এসব দেশ থেকে জুলাইয়ে এসেছে ২৪৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বিশ্বের অন্যান্য দেশ মিলিয়ে এসেছে মাত্র ৩৯ কোটি ২২ লাখ ডলার।
যুক্তরাজ্য দ্বিতীয়, সৌদি আরব শীর্ষে
জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সৌদি আরব থেকে—৫৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। মোট আয়ের প্রায় ২০ দশমিক ৫৫ শতাংশ এসেছে দেশটি থেকে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের এই অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠিয়ে পরিবার-পরিজনের ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনিয়োগে ভূমিকা রাখছেন।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ২৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৫ কোটি ৫৫ লাখ, ইতালি থেকে ২০ কোটি ৩১ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে ২০ কোটি ১৩ লাখ ডলার এসেছে।
এ ছাড়া কুয়েত থেকে ১৪ কোটি ৮৭ লাখ, ওমান থেকে ১৪ কোটি ১৯ লাখ, সিঙ্গাপুর থেকে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ এবং কাতার থেকে ১২ কোটি ১৫ লাখ ডলার এসেছে।
ছয় দেশ থেকেই দুই-তৃতীয়াংশ
জুলাইয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের উৎসে নির্ভরতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি ও মালয়েশিয়া—এই ছয় দেশ থেকেই এসেছে ১৯১ কোটি ৭১ লাখ ডলার।
এটি জুলাইয়ের মোট প্রবাসী আয়ের ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ ডলারের মধ্যে প্রায় ৬৭ ডলার এসেছে মাত্র ছয়টি দেশ থেকে।
গত অর্থবছরেও একই প্রবণতা
২০২৫-২৬ অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের উৎসে একই ধরনের ঘনত্ব ছিল। ওই অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ দেশ থেকে এসেছে ৩ হাজার ৮৩ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা মোট আয়ের ৮৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
গত অর্থবছরে সৌদি আরব ছিল সবচেয়ে বড় উৎস। দেশটি থেকে এসেছে ৫৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৫০৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এরপর ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েকটি শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে
শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশ রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী আয় উৎস।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা প্রবাসী আয়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো দেশে অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ কিংবা অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন হলে বাংলাদেশের আয়প্রবাহেও দ্রুত তার প্রভাব পড়তে পারে।
এই ঝুঁকি কমাতে প্রচলিত শ্রমবাজারের পাশাপাশি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার নতুন বাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী করা এবং প্রবাসীদের সেবার মান উন্নত করা গেলে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের ভিত্তি আরও বিস্তৃত ও টেকসই হতে পারে।