ব্রিটেন সংবাদ

ফ্রান্সে একজন অভিবাসী ফেরাতে ব্রিটেনের খরচ ৫৬ হাজার পাউন্ড

ফ্রান্সে একজন অভিবাসী ফেরাতে ব্রিটেনের খরচ ৫৬ হাজার পাউন্ড

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৬ সেপ্টেম্বর :

ফ্রান্সে একজন করে অভিবাসী ফেরাতে ব্রিটিশ সরকারের গড়ে প্রায় ৫৬ হাজার পাউন্ড খরচ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের চালু করা ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে পার্লামেন্টের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ।

২০২৫ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা নির্দিষ্ট কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে সমপরিমাণ আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধ প্রক্রিয়ায় ব্রিটেনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মাথাপিছু ৫৬ হাজার পাউন্ড হিসাবে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ৮৪ লাখ পাউন্ড

তবে এই বিপুল ব্যয়কে অস্বাভাবিক মনে করছে না সরকার। শাবানা মাহমুদ বলেন, একজন আশ্রয়প্রার্থীকে ব্রিটেনে একটি হোটেলে এক বছর রাখার যে খরচ হয়, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর ব্যয় তার সমান বা কখনো তার চেয়েও কম।

তবে ব্যবস্থাটি নিয়ে বাস্তব সমস্যাও রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, বেশি সংখ্যায় মানুষকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আটককেন্দ্রে জায়গার সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন ‘কার্যক্রমগত সমস্যা’ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ফেরত পাঠানো মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও একটি সমস্যা হলো, ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো কয়েকজন পরে আবার ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন। কেউ ট্রাকে করে, কেউ ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ফেরার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে জুনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে চুক্তির কিছু নিয়ম পরিবর্তন করতে হয়েছিল, যাতে পুনরায় ব্রিটেনে প্রবেশকারীদের আবার ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো যায়।

চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ ন্যুনেজ এর পরিবর্তে বৃহত্তর ইউরোপীয় ইউনিয়ন–ব্রিটেন প্রত্যাবাসন চুক্তির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্রান্স এককভাবে এই ব্যবস্থার দায়িত্ব বহন করতে চায় না।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলছে, পুরোনো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ‘ডাবলিন’ ব্যবস্থার তুলনায় বর্তমান চুক্তির মাধ্যমে বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। শাবানা মাহমুদ অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হলেই ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

এদিকে ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখার ব্যয়ও সরকারের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। জুনের শেষে প্রায় ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী ১৬০টি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এক বছর আগে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ হাজার।

ফলে একজনকে ফ্রান্সে ফেরাতে ৫৬ হাজার পাউন্ড খরচ এবং তাকে ব্রিটেনে রেখে দেওয়ার ব্যয়ের তুলনা এখন সরকারের অভিবাসন নীতির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সরকারের দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও হোটেলনির্ভর আশ্রয়ব্যবস্থার খরচ কমাতে প্রত্যাবাসন ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে সীমিত সংখ্যক মানুষকে ফেরত পাঠাতে এত বিপুল ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।