বিশ্ব সংবাদ
ইরান যুদ্ধে অস্ত্রভান্ডারে বড় ধাক্কা, মজুত পূরণে চাপে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বর:
ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শুধু অর্থ নয়, সামরিক অস্ত্রের মজুতেও বড় চাপ তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান অভিযানে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন করে সেই ঘাটতি পূরণের সক্ষমতাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বাধা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৩৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারে খরচ হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
এত বিপুল অস্ত্র ব্যবহারের ফলে তৈরি হয়েছে ‘স্ট্র্যাটেজিক ইনভেন্টরি শর্টফল’। অর্থাৎ ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত শুরু হলে দ্রুত ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র মজুত থাকার কথা, তার একটি অংশ এখন পুনরায় পূরণ করতে হবে।
সমস্যা শুধু অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নয়। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনব্যবস্থায়ও বিভিন্ন ‘বটলনেক’ বা সংকটের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে রকেট মোটর, উচ্চমানের বিস্ফোরক ও প্রপেল্যান্ট এবং দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধের সামরিক ক্ষতিও উল্লেখযোগ্য। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান ও ড্রোনও। মার্কিন হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং সাতটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
এই হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যুদ্ধের প্রকৃত আর্থিক ও সামরিক মূল্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি মেরামত এবং হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয় এর বাইরে রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে মোট খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি। কিন্তু ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব শুধু উন্নত অস্ত্র থাকার ওপর নির্ভর করে না—দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো উৎপাদনক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত মজুতও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এখন ওয়াশিংটনের সামনে বড় প্রশ্ন হলো—ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া এই অস্ত্রঘাটতি কত দ্রুত পূরণ করা সম্ভব। কারণ একই সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং এশিয়ায় চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতিও যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখতে হচ্ছে।