বাংলাদেশ সংবাদ
বাংলাদেশকে ‘হাই-রিস্ক কার্গো’ তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্রিটেনের সহযোগিতা চাইল ঢাকা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৬ সেপ্টেম্বর :
বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘হাই-রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ তালিকা থেকে বাদ দিতে ব্রিটেনের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে এ সহযোগিতা চান।
বাংলাদেশের দাবি, ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটিকে উচ্চঝুঁকির কার্গো ও ডাক পরিবহনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর বিমানপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রী জানান, এই মর্যাদা প্রত্যাহারের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে। বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা নিরীক্ষাতেও সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং সাম্প্রতিক নিরীক্ষার সন্তোষজনক ফল বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার এই উচ্চঝুঁকির মর্যাদা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে।
ব্রিটেনের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানপথে পণ্য পরিবহন এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উচ্চঝুঁকির মর্যাদার কারণে অতিরিক্ত পরীক্ষা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় বাড়লে রপ্তানিকারকদের পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে।
বিশেষ করে দ্রুত পচনশীল পণ্য, তৈরি পোশাকসহ সময়নির্ভর রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় ও খরচ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এই মর্যাদা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত উপকৃত হতে পারে।
বৈঠকে শুধু কার্গো নিরাপত্তা নয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বিমানের বর্তমানে উড়োজাহাজের ঘাটতি রয়েছে এবং দ্রুত নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে আগ্রহের বিষয়টিও উঠে আসে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মেনজিস এভিয়েশন-এর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে কাজ করার আগ্রহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হলো—২০১৭ সালে আরোপিত উচ্চঝুঁকির কার্গো ও ডাক পরিবহনের মর্যাদা প্রত্যাহার করা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং বিমানবন্দরগুলোর সাম্প্রতিক নিরীক্ষার ফলকে সামনে রেখে ঢাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।
ব্রিটেনের সহযোগিতা সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কতটা ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।