ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

আবারও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটে ব্রিটেন, বাড়ছে জ্বালানি বিল

আবারও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকটে ব্রিটেন, বাড়ছে জ্বালানি বিল

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৭ আগস্ট:

ব্রিটেনের পরিবারগুলোর ওপর আবারও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিলের বড় ধরনের বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে ফের ঊর্ধ্বমুখী করে তুলতে পারে। নতুন সরকারের জন্য তাই অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সংসার সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আগামী বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানেই পরিস্থিতির প্রথম স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুনে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসা মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। এর অন্যতম প্রধান কারণ গত মাসে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব।

এক ধাক্কায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ

এ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত Ofgem-এর এনার্জি প্রাইস ক্যাপ ১৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ একটি পরিবারের বার্ষিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের মূল্যসীমা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৮৬২ পাউন্ডে। আগের প্রান্তিকে এই সীমা ছিল ১,৪৭৭ পাউন্ড।

মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ব্রিটেনের জ্বালানি বাজার আন্তর্জাতিক গ্যাস ও তেলের দামের ওঠানামার প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় যুদ্ধের প্রভাব দ্রুতই দেশটির পরিবার ও ব্যবসার ব্যয়ে এসে পড়ছে।

মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা

শুধু জুলাইয়ের হিসাবেই সংকট শেষ হচ্ছে না। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের জুলাইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বছরের শেষভাগে ৩ শতাংশের ওপরে থাকতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি পূর্বাভাসে অক্টোবরের দিকে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশে ওঠার আশঙ্কা করা হয়েছে।

এতে সুদের হার কমানোর বদলে আবার বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। সুদের হার বাড়লে মর্টগেজ, ঋণ ও ব্যবসায়িক অর্থায়নের খরচ বাড়বে—ফলে জ্বালানি বিলের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য ব্যয়ও চাপে পড়তে পারে।

খাবারের দামেও আসছে নতুন চাপ

জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। উচ্চ তাপমাত্রা, খরা ও কৃষিপণ্যের সরবরাহে বিঘ্নের কারণে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। এর অর্থ হলো, শরৎ ও শীতের দিকে পরিবারগুলোকে একই সঙ্গে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় এবং খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্যও এটি উদ্বেগের বিষয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে, যেখানে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ০ দশমিক ৬ শতাংশ। উচ্চ জ্বালানি মূল্য বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনীতির গতি আরও কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

সরকারের জন্য কঠিন পরীক্ষা

নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিলে ভ্যাট সাময়িকভাবে শূন্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। অক্টোবর থেকে এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক এনার্জি বিল থেকে প্রায় ৪৫ পাউন্ড কমতে পারে।

এর আগে সরকার গড় হিসাবে পরিবারগুলোর জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রায় ১৫০ পাউন্ডের চাপ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যদি আরও বাড়ে, এসব সহায়তা কতটা কার্যকর হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের জন্য তাই পুরনো সংকট যেন নতুন রূপে ফিরে আসছে। কয়েক বছর আগে জ্বালানি, খাদ্য ও আবাসন ব্যয়ের যে চাপ পরিবারগুলোর বাজেটকে বিপর্যস্ত করেছিল, এবার যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সেই চাপকে আবারও বাড়িয়ে দিতে পারে।

অর্থনীতি সামলানোর পাশাপাশি নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—ব্রিটিশ পরিবারের মাসের শেষে হাতে কত টাকা থাকে, সেটি যেন জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে নিঃশেষ হয়ে না যায়।